ভোলা সরকারি কলেজ শিক্ষক সংকটে পাঠদান : ক্লাস ব্যাহত

মেসকাত আহাম্মেদ (ভোলা কলেজ প্রতিনিধি)

ভোলা জেলার সেরা বিদ্যাপীঠ ভোলা সরকারি কলেজে শিক্ষক স্বল্পতার জন্য ভেঙে পড়েছে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা। চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। ক্লাস না হলেও শিক্ষার্থীদের অংশ নিতে হচ্ছে পরীক্ষায়।শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও ভালো ফলাফল করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি উদ্বিগ্ন অভিভাবকরাও। ৮৯টি শিক্ষকের সৃষ্ট পদের মধ্যে মাত্র ৪৩ জন শিক্ষক দিয়েই চলছে জেলার একমাত্র উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভোলা সরকারি কলেজ।প্রায় ৬ দশক ধরে কলেজটি সুনামের সঙ্গে ভোলার ৭টি উপজেলা ছাড়া ও জেলার বাইরে থেকে আসা শিক্ষার্থীদের আলোকিত করে আসছে। জানা যায় সমাজ সেবক আলতাজের রহমান তালুকদার, হাজী খোরশেদ আলম,ইলিয়াস আলী মাস্টার,মো. ছিদ্দিক ও মোসলেউদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষানুরাগীর প্রচেষ্টায় ১৯৬২ সালে ১৫.৬০ একর জমির ওপর কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন আ. হক মিয়া। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে কলেজটি ভোলা তথা দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলার মধ্যে একমাত্র স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত লাভ করে।কিন্তু বর্তমানে শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত কলেজটি।জেলার সেরা বিদ্যাপীঠ হলে ও শিক্ষক স্বল্পতার জন্য ভেঙে পড়েছে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা। কলেজ সূত্র জানায়,১৯৭৯ সালে ভোলা সরকারি কলেজটি সরকারিকরণ করা হয়।১৯৯৬ সালে অনার্স কোর্স চালু হয়।বতর্মানে ১৬টি বিষয়ে অনার্স,১৪টি বিষয়ে মাস্টার্স ও ডিগ্রিসহ (পাস) উচ্চ মাধ্যমিক চালু রয়েছে।কলেজটিতে বিভিন্ন সেকশনে ৮৯ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও শিক্ষক আছেন মাত্র ৪৩ জন,উপাধ্যক্ষ পদটি ও শূন্য প্রায় ৪ বছর ধরে।আর ৪৬ জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে এখানে।এত কম শিক্ষক দিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক, অনার্স, মাস্টার্স, ডিগ্রিসহ প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থীকে পাঠদান চলছে।আর এত শিক্ষার্থীকে পাঠদান করাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষকদের অন্যদিকে,ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা।
কলেজ সূত্রে জানা যায়,কলেজটিতে অনার্স বিষয়ে ১৬ টি কোর্স চালু থাকলেও অনেক বিভাগে ডিগ্রী কোর্স সময়কার শিক্ষকদের পদ রয়েছে নতুন কোন পদ সৃষ্টি করা হয়নি।আর যে কয়টি বিভাগে পদ সৃষ্টি করা হয়েছে সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ কোনো শিক্ষক নেই। এর মধ্যে ইংরেজি বিভাগে ৬ জনের মধ্যে আছেন ৪ জন, অর্থনীতিতে ৫ জনের মধ্যে ২জন, বাংলায় ৭ জনের মধ্যে ৬ জন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ৬ জনের মধ্যে ৩ জন, ইতিহাসে ৪ জনের মধ্যে ২ জন, ইসলামীর ইতিহাসে ৪ জনের মধ্যে ১ জন,দর্শনে ৪ জনের মধ্যে ১ জন, সমাজকর্মে ৬ জনের মধ্যে ২ জন, ভূগোলে ৪ জনের মধ্যে ২ জন, গণিতে ৪ জনের মধ্যে ২ জন, পদার্থবিজ্ঞানে ৪ জনের মধ্যে ২ জন, রসায়নে ৪ জনের মধ্যে ১ জন,উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞানে ৪ জনের মধ্যে ২ জন করে, মৃত্তিকাবিজ্ঞানে ৬ জনের মধ্যে ১ জন, হিসাববিজ্ঞানে ৬ জনের মধ্যে ২ জন, ব্যবস্থাপনায় ৬ জনের মধ্যে ২ জন,আরবি ও ইসলাম শিক্ষায় ২ জনের মধ্যে ১জন কর্মরত রয়েছেন।এদের মধ্যে ৫ জন প্রশিক্ষণসহ ছুটিতে রয়েছেন।ফলে এ শিক্ষকরা একদিকে উচ্চমাধ্যমিক কোর্স ক্লাস নেয়ার পর স্নাতক পাস কোর্স, অনার্স, মাস্টার্স কোর্সে আর ক্লাস নেয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না।আবার বিভিন্ন পরীক্ষার কারণে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির ক্লাস হয় না।এনিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও। এদিকে,দীর্ঘদিন থেকে কলেজটিতে রসায়ন,ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি মৃত্তিকা বিজ্ঞান,হিসাব বিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, দর্শন, সমাজকর্ম বিভাগে ২-১জন শিক্ষক থাকায় এ বিভাগে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, ক্লাস করতে এসো শিক্ষক সংকট থাকায় ক্লাস না করতে পেরে হতাশা নিয়ে বাসায় ফিরছে শিক্ষার্থীরা। কলেজের শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি শিক্ষক সংকটের কারণে কয়েকবার মানববন্ধন ও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করেও শিক্ষকের চাহিদা পূরণ করতে প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ নেই। ভোলা সরকারি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের বর্ষের ছাত্র হাসনাইন,বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব হোসেন,ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাগর রায়,৩য় বর্ষের মেহেদী হাসান,আলী আকবর, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের আরাফাত রহমান জিকু,দ্বাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের মাহবি, তানজিল, একাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের সুরাইয়া,ঝাকিয়া আহসান,মুন সহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান,দিন দিন ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়লেও বাড়ছে না শিক্ষক।আমরা হতাশায় ভুগছি কি করবো ভেবে পাচ্ছিনা,তারা বলেন শিক্ষার্থীদের প্রাণ হলো শিক্ষক কিন্তু সেই প্রাণ আমাদের কলেজে নেই।
একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, একমাত্র ভোলা সরকারি কলেজে লেখাপড়া করে ভালো ফলাফল অর্জন করবো সে কারনে এখানে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু ভর্তি হওয়ার পর অবাক হয়েছি।যে সু-নামের জন্য ভোলা সরকারি কলেজে লেখাপড়া করার জন্য এসেছি সে কলেজটির মধ্যে এমন করুন অবস্থা সেটা আগে বুঝতে পারেনি। তারা আরো বলেন,বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ভোলা সরকারি কলেজের যে সুনাম আছে সেটি ধরে রাখতে না পারলে কয়েক বছরের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী কলেজটি শিক্ষার্থী শুন্য হয়ে পড়বে। ভোলা সরকারি কলেজের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীইব্রাহিম আদহাম সূর্য বলেন, প্রতিবছর এই কলেজ থেকে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজ এ চান্স পায় অনেক শিক্ষার্থীরা কিন্তু এ বছর শিক্ষক সংকট থাকার কারণে আমরা তেমন কিছু মৌলিক বিষয়ে শিখতে পারিনি আর কেউ চান্স পায়নি কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা মেডিকেল কলেজে এইবার।এ দায়ভার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এবং শিক্ষা অধিদপ্তর দপ্তর কে নিতে হবে ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মোঃ এরশাদ বলেন, “অনার্স, মাস্টার্স শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পর উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদান সম্ভব হয়ে ওঠে না।তাই, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ক্লাস নিতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়।হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জামাল হোসেন বলেন,শিক্ষার্থীদের কে সময় দেওয়ার চেষ্টা করিকিন্তু একা মানুষ চেষ্টা থাকলেও সবাইকে ভোলা সরকারি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের বর্ষের ছাত্র হাসনাইন,বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব হোসেন,ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাগর রায়,৩য় বর্ষের মেহেদী হাসান,আলী আকবর, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের আরাফাত রহমান জিকু,দ্বাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের মাহবি, তানজিল, একাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের সুরাইয়া,ঝাকিয়া আহসান,মুন সহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান,দিন দিন ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়লেও বাড়ছে না শিক্ষক।আমরা হতাশায় ভুগছি কি করবো ভেবে পাচ্ছিনা,তারা বলেন শিক্ষার্থীদের প্রাণ হলো শিক্ষক কিন্তু সেই প্রাণ আমাদের কলেজে নেই। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, একমাত্র ভোলা সরকারি কলেজে লেখাপড়া করে ভালো ফলাফল অর্জন করবো সে কারনে এখানে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু ভর্তি হওয়ার পর অবাক হয়েছি।যে সু-নামের জন্য ভোলা সরকারি কলেজে লেখাপড়া করার জন্য এসেছি সে কলেজটির মধ্যে এমন করুন অবস্থা সেটা আগে বুঝতে পারেনি।
তারা আরো বলেন,বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ভোলা সরকারি কলেজের যে সুনাম আছে সেটি ধরে রাখতে না পারলে কয়েক বছরের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী কলেজটি শিক্ষার্থী শুন্য হয়ে পড়বে।
ভোলা সরকারি কলেজের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম আদহাম সূর্য বলেন, প্রতিবছর এই কলেজ থেকে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজ এ চান্স পায় অনেক শিক্ষার্থীরা কিন্তু এ বছর শিক্ষক সংকট থাকার কারণে আমরা তেমন কিছু মৌলিক বিষয়ে শিখতে পারিনি আর কেউ চান্স পায়নি কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা মেডিকেল কলেজে এইবার।এ দায়ভার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এবং শিক্ষা অধিদপ্তর দপ্তর কে নিতে হবে।
ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মোঃ এরশাদ বলেন, “অনার্স, মাস্টার্স শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পর উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদান সম্ভব হয়ে ওঠে না।তাই, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ক্লাস নিতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়। হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জামাল হোসেন বলেন,শিক্ষার্থীদের কে সময় দেওয়ার চেষ্টা করিকিন্তু একা মানুষ চেষ্টা থাকলেও সবাইকে সময় দেওয়া সম্ভব হয় না অনার্স থেকে মাস্টার্স এত শিক্ষার্থীদের ২ জন শিক্ষক পাঠদান কিভাবে সম্ভব বুজতেইতো পারছেন। এদিকে কলেজের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণি শ্রেণীর কর্মচারীর সৃষ্ট ২৪টি পদ থাকলে ও ১২ জন রয়েছে কর্মরত।২৪টি পদের প্রধান সহকারী,হিসাব রক্ষক, হিসাব সহকারী,ক্যাশিয়ার সহ ৬ টি পদই রয়েছে শূন্য। ভোলা সরকারি কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারন সম্পাদক এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ উল্লাহ স্বপন বলেন বিষয়টি আসলে দুঃখজনক হলে সত্য,শিক্ষার্থীদের চাহিদামত ক্লাস আমরা নিতে পারছি না,তিনি বলেন আমার বিভাগে আমি একা থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান, দাপ্তরিক কাজ আমাকেই সব কিছু দেখতে হচ্ছে । তিনি বলেন একটি কলেজের ভালো ফলাফল তৈরিতে শিক্ষকদের বিকল্প কিছু নেই আর সেটাই আমাদের কলেজে সংকট। কলেজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন বরিশাল,ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক প্রয়োজন না হলেও অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় সেখানে তারা এমনিতেই বসে বসে বেতন পান আর গ্রামাঞ্চলের কলেজ গুলোতে শিক্ষক নেই এই ব্যর্থতা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। ভোলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর গোলাম জাকারিয়া বলেন,দুর্ভাগ্যের বিষয় ৮৯ জন শিক্ষকদের মধ্যে মাত্র ৪৩ জন শিক্ষক নিয়েই চলতে হচ্ছে আমাদের।
শিক্ষকদের পাঠদান ছাড়া ও দাপ্তরিক কিছু কাজ রয়েছে সেগুলো ও তারা করতে পারছেন না।
তিনি জানান শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা অধিদপ্তর এ বিষয়ে অবহিত রয়েছে তাদের কাছে শূন্যপদের তালিকা ও রয়েছে বলে জানান তিনি এবং জরুরি ভিত্তিতে শুন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার জন্য মন্ত্রলায়ে আবেদন জানানো হয়েছে।তিনি বলেন শিক্ষক কম হলে ও উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির রুটিন মাফিক ক্লাস আমরা নেওয়ার চেষ্টা করি কিন্তু অনার্স মাস্টার্সে তা সম্ভব হয় না। আমি ও আমার সহকর্মিরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি কলেজটিকে দেশের সেরা কলেজ সমূহ প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে আমাদের।

ফেসবুকে লাইক দিন