বোরহানউদ্দিনে রাস্তা নির্মাণের দাবিতে কাঁচা সড়কে ধান রোপণ করে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ

মোঃ ইকবাল হোসেনঃ ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মলাইপত্তন এলাকার কাজী বাড়ির রাস্তা (জয়লা বাড়ি) থেকে সাইকেল সেন্টার পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটি কাঁচাই পড়ে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো সড়ক কাদামাটিতে পরিণত হয়। ফলে হেঁটে চলাচল করাও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন অসুস্থ রোগী ও বৃদ্ধরা। জরুরি মুহূর্তে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স কিংবা অন্যান্য যানবাহনও ওই সড়কে চলাচল করতে পারে না। এতে রোগীদের চিকিৎসা সেবা পেতে মারাত্মক বিলম্ব হচ্ছে।
বর্ষা মৌসুমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। কাদামাটির কারণে অনেক শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে যেতে গিয়ে পড়ে আহত হয়। ফলে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. সবুজ বলেন, বছরের পর বছর ধরে আমরা এই রাস্তার দুর্ভোগ সহ্য করছি। জনপ্রতিনিধিদের কাছে বহুবার আবেদন জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষাকালে বাড়ি থেকে বের হওয়াও কষ্টকর হয়ে যায়।
আরেক বাসিন্দা মো. জিহাদ বলেন, কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিতে অনেক কষ্ট হয়। ছোট ছোট বাচ্চারা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারে না। আমরা দ্রুত এই সড়কটি পাকাকরণের জোর দাবি জানাচ্ছি। স্থানীয়দের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেও কোনো সুফল না পাওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এরই প্রতিবাদ হিসেবে কাঁচা সড়কের ওপর ধানের চারা রোপণ করে ভিন্নধর্মী কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই সড়কের দুরবস্থার প্রতি প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তারা এমন প্রতিবাদ করেছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সড়কটি পাকাকরণ করা হলে কয়েক হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষিপণ্য পরিবহন ও সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
