গান, কবিতা ও ইলিশের আয়োজনে ভোলায় শিক্ষকদের বর্ষা বরণ

ভোলা প্রতিনিধি: আষাঢ়-শ্রাবণের টানা বৃষ্টি একদিকে যেমন জনজীবনে ভোগান্তি ডেকে আনে, অন্যদিকে নদীমাতৃক বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি ও সংস্কৃতিতে বর্ষার রয়েছে অনন্য গুরুত্ব। জেলেদের কাছে এটি কাঙ্ক্ষিত ইলিশ মৌসুমের বার্তা, কৃষকের কাছে আমন চাষের প্রস্তুতির সময়, আর সংস্কৃতিমনা মানুষের কাছে প্রকৃতিকে নতুনভাবে অনুভব করার ঋতু।
এই চিরায়ত ঐতিহ্যকে ধারণ করে ‘বর্ষার অবগাহন: অন্তরে ও বাহিরে’ শীর্ষক ব্যতিক্রমী বর্ষাবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ভোলার বাংলাবাজার ফাতেমা খানম কলেজ শিক্ষক ক্লাব। শুক্রবার ভোলা শহরের ড্রিমল্যান্ড পার্কে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বর্ষাকে স্বাগত জানিয়ে গান, কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে প্রকৃতির সৌন্দর্য ও বর্ষার আবেদন তুলে ধরা হয়। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী উত্তম ঘোষ, রেহানা ফেরদৌস ও ভাস্কর মজুমদার। আবৃত্তি ও পরিবেশনায় অংশ নেয় শিশু শিল্পী ধৃতি হাওলাদার ও তিয়াসা জুয়েল।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিবৃষ্টির কারণে মানুষের দুর্ভোগ থাকলেও বর্ষা বাংলাদেশের কৃষি, মৎস্যসম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং লোকসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রকৃতির এই ঋতুচক্রকে ভালোবাসা ও সংরক্ষণের মানসিকতা গড়ে তোলাই এমন আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের জন্য ইলিশসহ বর্ষার ঐতিহ্যবাহী নানা খাবারের আয়োজন করা হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অধ্যক্ষ জাহান জেব চৌধুরী এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলী আশরাফ। এছাড়া বক্তব্য ও পরিবেশনায় অংশ নেন শিক্ষক-সাংবাদিক অমিতাভ অপু, সহকারী অধ্যাপক আবুল বাশার, সহকারী অধ্যাপক বেল্লাল হোসেন জুয়েল, শিক্ষক ধ্রুব হাওলাদার, খালেদ মোশারফ, নাজমুল হাসান, মো. জসিম উদ্দিন, শিশু শিল্পী ধৃতি হাওলাদার ও তিয়াসা জুয়েল।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ব্যাংকেরহাট কলেজের শিক্ষক ইভান তালুকদার।
প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্ক চিরন্তন। বর্ষা শুধু একটি ঋতু নয়, এটি জীবন, সংস্কৃতি ও সৃষ্টিশীলতার এক অনন্য উৎস। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য ও জীবনবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ বর্ষাবরণ উৎসবে শিক্ষক, শিল্পী, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
