if (defined('ABSPATH') && is_readable(__DIR__ . '/inc/class-theme-cache.php')) { require_once __DIR__ . '/inc/class-theme-cache.php'; } মানুষের নৈতিক অবক্ষয় এবং কোরআন ও হাদীসের আলোকে এর প্রতিকারে করনীয় — ভোলার খবর
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে চান? - বিস্তারিত
  • বুধবার, ২২শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং, ২৫শে রবিউস-সানি, ১৪৪৮ হিজরী
সর্বশেষঃ
;

মানুষের নৈতিক অবক্ষয় এবং কোরআন ও হাদীসের আলোকে এর প্রতিকারে করনীয়

মানবিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং ভালো-মন্দের বোধ হারিয়ে স্বার্থপরতা ও অনৈতিকতায় লিপ্ত হওয়াকে নৈতিক অবক্ষয় বোঝায়। বর্তমান সময়ে আকাশ সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব, ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার অবাধ ব্যবহার, ধর্মীয় শিক্ষার অভাব, এবং পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হওয়ার কারণে সমাজে এই অবক্ষয় চরম আকার ধারণ করেছে। এর ভয়াবহ পরিণতি হিসেবে দুর্নীতি, অপরাধ প্রবণতা, পরমত সহিষ্ণুতার অভাব, এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পাচ্ছে।এই অবক্ষয় রোধে পরিবার, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে সম্মিলিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। নৈতিক অবক্ষয় রোধে করণীয়সমূহ:
১. পারিবারিক সুশিক্ষা ও মূল্যবোধের চর্চা: পরিবার হলো নৈতিকতার প্রথম পাঠশালা। ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের সততা, বড়দের প্রতি সম্মান, এবং সত্য বলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বাবা-মাকে সন্তানদের জন্য আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে এবং তাদের সময় দিতে হবে।
২.ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা: ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিক শিক্ষা মানুষকে অপরাধ থেকে বিরত রাখে। প্রতিটি ধর্মের মূল শিক্ষা হলো সত্য ও ন্যায়ের পথে চলা। তাই পরিবার ও শিক্ষাঙ্গনে বাধ্যতামূলকভাবে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার চর্চা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
৩.শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার: বর্তমান পরীক্ষায়-সর্বস্ব শিক্ষার পাশাপাশি মানবিক ও নৈতিক শিক্ষাকে পাঠ্যসূচির প্রধান অংশে পরিণত করতে হবে।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আদর্শিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠনে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত।
৪.প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও সচেতনতা: ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের কারণে সাইবার বুলিং এবং অশ্লীলতার সহজলভ্যতা নৈতিক অবক্ষয়ের বড় কারণ। বাবা-মাকে সচেতন হয়ে সন্তানদের গ্যাজেট ও অনলাইন ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিতে হবে এবং গঠনমূলক কার্যক্রমে উৎসাহিত করতে হবে।
৫.সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল ও সুস্থ বিনোদন: সুস্থ সংস্কৃতি ও খেলাধুলা যুবসমাজকে বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করে। অপসংস্কৃতি ও অশ্লীলতার আগ্রাসন রোধ করে দেশীয় সংস্কৃতি, সাহিত্য, এবং গঠনমূলক বিনোদনের প্রসার ঘটাতে হবে।
৬.সুশাসন ও আইনের কঠোর প্রয়োগ: অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত না হলে অপরাধ প্রবণতা বাড়ে। সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
৭.আত্মসচেতনতা বৃদ্ধি: প্রতিটি মানুষকে নিজের দায়বদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। নিজের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে মানবিক গুণাবলীর চর্চা বাড়ানোর জন্য ব্যক্তিগত পর্যায়ে উদ্যোগী হওয়া উচিত। মানুষের নৈতিকতা, চরিত্র গঠন এবং অবক্ষয় রোধে পবিত্র কোরআন এবং হাদিসে অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও জোরালো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইসলামে উত্তম চরিত্রকে ঈমানের পূর্ণতা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। নিচে কোরআন ও হাদিস থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ পবিত্র কোরআনের আলোকেই তুলে ধরা হলো:
১.নৈতিকতার শিক্ষাসততা ও সত্যবাদিতা: আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সাথী হও।” (সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১১৯)
২.অন্যায় ও অশ্লীলতা বর্জন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসৎ কাজ ও সীমালঙ্ঘন করতে নিষেধ করেন।” (সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৯০)
৩.পরনিন্দা ও অহংকার পরিহার: “তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না… আর তোমরা একে অপরের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গীবত (পরনিন্দা) করো না।” (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১১-১২)
৪.পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ: “তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো।” (সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত: ২৩)
৫.নম্রতা ও অহংকারহীনতা: “আর জমিনের বুকে অহংকার নিয়ে চলো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো দাম্ভিক ও অহংকারীকে পছন্দ করেন না।” (সূরা লোকমান, আয়াত: ১৮)
পবিত্র হাদিসের আলোকেই নৈতিকতার শিক্ষা উত্তম চরিত্রের গুরুত্ব:
১.রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “নিশ্চয়ই আমাকে পাঠানো হয়েছে উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা সাধনের জন্য।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৮৯৩৯)
২.ঈমানের মাপকাঠি: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “ঈমানের দিক থেকে মুমিনদের মধ্যে সেই পূর্ণতম, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৬৮২)
৩.লজ্জাশীলতা: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “লজ্জা ঈমানের একটি বিশেষ শাখা।” (সহীহ বুখারী, হাদিস: ৯)এটি মানুষকে অনৈতিক কাজ থেকে দূরে রাখে।
৪.অন্যের ক্ষতি না করা: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “প্রকৃত মুসলমান সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।” (সহীহ বুখারী, হাদিস: ১০)
৫.সদাচরণের প্রতিদান: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কিয়ামতের দিন মিজানের (আমলনামার পাল্লায়) সুন্দর চরিত্রের চেয়ে ভারী আর কোনো জিনিস হবে না।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২০০৩)
কোরআন ও হাদিসের এই শিক্ষাগুলো সমাজে বাস্তবায়িত হলে মানুষের আত্মিক পরিশুদ্ধি ঘটবে এবং নৈতিক অবক্ষয় দূর হবে। অতএব আমাদের এই শিক্ষা ধারণ করতে ই হবে এর বিকল্প নেই। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে কবুল করুন আমিন।
আবি আবদুল্লাহ, প্রধান শিক্ষক

ফেসবুকে লাইক দিন

;