আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে চান? - বিস্তারিত
  • সোমবার, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫শে মে, ২০২৬ ইং, ৭ই জিলহজ্জ, ১৪৪৭ হিজরী

বোরহানউদ্দিনে পারিবারিক শত্রুতার জেরে মা ও দুই মেয়েকে পিটিয়ে গুরুতর আহত, হাসপাতালে ভর্তি

​বোরহানউদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ ​ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ডে পারিবারিক পূর্ব শত্রুতার জেরে এক মা ও তাঁর দুই মেয়ে হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে মা ও তাঁর এক মেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপর মেয়েকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
​ভুক্তভোগী আরজু বেগম (৩২) অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাদের পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার ৪-৫ মাস আগে অভিযুক্তরা তাদের বাগানের প্রায় ১০০-১৫০টি সুপারি চারা কেটে ফেলে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করতে চাইলে স্থানীয় মুরব্বিরা সালিশের মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেন। ​আরজু বেগম জানান, গত ১৫ই আগস্ট, শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১১টায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী মোঃ ইফতি (২৫), পিতা- মোঃ মানিক হাওলাদার ইয়াছমিন (৪৭), স্বামী-মোঃ মানিক হাওলাদার, ঋতু (২৭), পিতা- মোঃ মানিক হাওলাদার, মোঃ মানিক হাওলাদার (৬০) পিতা-মৃত মজিবল হক হাংলাদারদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রড ও লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। ​হামলায় আরজু বেগমের মেয়ে তাছলিমার মাথায় রড দিয়ে আঘাত করা হলে সে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আরজু বেগমকে রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে তাঁর হাঁটু ভেঙে যায় এবং তাঁর ছোট মেয়ে তাছলিমার পিঠে ও মাজায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। অভিযুক্তরা এ সময় তাদের শরীরের কাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করে এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে। একই সঙ্গে তারা আরজু বেগম ও তাঁর মেয়েদের গলা ও কান থেকে আনুমানিক দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ও দুল ছিনিয়ে নেয়। ​ঘটনার সময় আরজু বেগমের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতদের ভর্তি করে নেন। আরজু বেগম ও তাঁর মেয়ে তাছলিমা এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্য মেয়ে আকলিমার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে ভোলা এবং পরে ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ​এই ঘটনায় আরজু বেগম বাদী হয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ মানিক হাওলাদারের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তারা এখন বাড়িতে নেই মামলা হয়েছে আইনে যা হয় হবে। বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ পেয়েছি পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

ফেসবুকে লাইক দিন