৭ বছরেও মেলেনি গ্যাস সংযোগ, ভোলায় ৫৭৭ গ্রাহকের আল্টিমেটাম

ভোলা প্রতিনিধি: সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গ্যাস সংযোগের জন্য অর্থ জমা দেওয়ার সাত বছর পরও সংযোগ না পাওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোলার ৫৭৭ জন গ্রাহক। তারা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। অন্যথায় নিজেদের উদ্যোগে গ্যাস সংযোগ নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮-২০১৯ সালে ভোলায় আবাসিক গ্যাস সংযোগ কার্যক্রম চালু থাকাকালে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ আবেদন জমা পড়ে। আবেদন যাচাই-বাছাই ও জরিপ শেষে সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড প্রায় ১ হাজার ১৩৮টি সংযোগ প্রদান করে এবং আরও প্রায় ১ হাজার গ্রাহকের নামে ডিমান্ড নোট (চাহিদাপত্র) ইস্যু করে। অভিযোগে বলা হয়, ডিমান্ড নোটের বিপরীতে গ্রাহকেরা সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির ব্যাংক হিসাব, পৌরসভাসহ বিভিন্ন দপ্তরে আনুমানিক ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা জমা দেন। পাশাপাশি রাস্তা কর্তনের অনুমতিপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দেওয়া হয়। কিন্তু অর্থ জমা দেওয়ার পরও গত সাত বছর ধরে তারা গ্যাস সংযোগ পাননি।
গ্রাহকদের দাবি, ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডের বাইরে থাকায় জেলার নিজস্ব গ্যাস থেকেই আবাসিক সংযোগ দেওয়া সম্ভব। বর্তমানে জেলার কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে এবং নতুন কূপ চালু হলে উৎপাদন আরও বাড়বে। তাদের মতে, আবাসিক খাতে অল্প পরিমাণ গ্যাস বরাদ্দ দিলেই ভোলার হাজারো পরিবার উপকৃত হবে, অথচ জেলার গ্যাস অন্যত্র সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ভোলায় আবাসিক গ্যাস সংযোগ পুনরায় চালু করলে সরকারের অতিরিক্ত কোনো অবকাঠামোগত ব্যয় হবে না। বরং পূর্বে জমা দেওয়া অর্থের ভিত্তিতে সংযোগ প্রদান করলে সরকার রাজস্বও অর্জন করবে। গ্রাহকেরা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে তারা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
