আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে চান? - বিস্তারিত
  • সোমবার, ১৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং, ১২ই মুহাররম, ১৪৪৮ হিজরী

শিশু আলীর মৃত্যুতে প্রশ্নের মুখে উদয়পুর রাস্তার মাথা ইসলামি একাডেমি

বোরহানউদ্দিন প্রতিনিধি: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের উদয়পুর রাস্তার মাথায় অবস্থিত উদয়পুর রাস্তার মাথা ইসলামি একাডেমির এক নার্সারি শিক্ষার্থীর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কোনো পরিবহন ব্যবস্থা নেই। শিক্ষার্থীরা ভাড়াকৃত যানবাহনের মাধ্যমে যাতায়াত করে এবং প্রতিদিন ছুটির পর ব্যস্ত ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়ক পার হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এত ব্যস্ত সড়কের পাশে অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।
গত শনিবার ছুটির পর দুইজন শিক্ষক কয়েকজন শিক্ষার্থীকে রাস্তা পার করানোর সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার ধাক্কায় নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলী গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে প্রথমে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, এরপর ভোলা সদর হাসপাতাল, সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল এবং সর্বশেষ ঢাকায় নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
নিহত শিশুর বাবা মো. ইউসুফ অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীনতা এবং নিরাপদ পরিবহন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবেই তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. জুয়েল বলেন, “আমাদের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা নেই। এটি একটি নতুন প্রতিষ্ঠান। দুর্ঘটনার সময় শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের রাস্তা পার করানোর দায়িত্ব পালন করছিলেন।”
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, ব্যস্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে পরিচালিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন, একাডেমিক স্বীকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করেছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
শিশু আলীর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত কারণ ও দায় নিরূপণ করা হোক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

ফেসবুকে লাইক দিন