আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে চান? - বিস্তারিত
  • বুধবার, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং, ২৩শে জিলহজ্জ, ১৪৪৭ হিজরী
সর্বশেষঃ

তজুমদ্দিনে গৃহবধূ ধর্ষণ ছাত্রদল-শ্রমিক দলের তিন নেতা বহিষ্কার, মির্জা ফখরুলের নিন্দা গ্রেপ্তার আরো একজন

তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মাওলানাকান্দি এলাকায় চাঁদা না পেয়ে স্বামীকে নির্যাতন করে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় বিএনপির অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদল ও শ্রমিক দলের স্থানীয় তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিকে র‌্যাব-৮ এর একটি টিম অভিযান চালিয়ে ভোলার ইলিশা লঞ্চ ঘাট থেকে মানিক নামের এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত কর্মসূচিতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যাতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ছাত্রদল ও শ্রমিক দলের কেন্দ্র থেকে পাঠানো পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযুক্ত নেতাদের জঘন্য কর্মকাণ্ড ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় বিএনপির মিডিয়া সেলের পাঠানো বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দুস্কৃতিকারিরা গত সোমবার ভোলায় চাঁদার দাবিতে স্বামীকে মারধর এবং স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের যে ন্যাক্কারজনক ও কাপুরুষোচিত ঘটনা ঘটিয়েছে, তার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পরও দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে একটি গোষ্ঠী তৎপর। এমন বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডে নারী সমাজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এই দুস্কৃতিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সময়ের দাবি। এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল উপজেলা সদরে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবাদ সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনা অনাকাঙ্খিত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বুধবার ধর্ষণ মামলার ৫নং আসামী মোঃ মানিককে ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন। তিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার কথা স্বীকার করেছেন। অন্যান্য অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে তজুমদ্দিন উপজেলার মাওলানাকান্দি এলাকায় বাদীর দ্বিতীয় স্ত্রীর বসতঘরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। চাঁদার দাবিতে একদল দুর্বৃত্ত ওই বাড়িতে ঢুকে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর তজুমদ্দিন জুড়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী ও সামাজিক সংগঠনগুলো দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

ফেসবুকে লাইক দিন