ভোলার মনপুরা নৌরুটে অর্ধ-পরিত্যক্ত সি-ট্রাক সার্ভিস, যাত্রীসেবায় জনদুর্ভোগ।।

স্টাফ রিপোর্টার!!!
ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরা ও তজুমদ্দিন উপজেলার সাথে নৌ-পথে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম সি-ট্রাকটি দীর্ঘ ৬ মাস বন্ধ রয়েছে। কালবৈশাখী মৌসুমে ছোট ট্রলারে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিচ্ছেন যাত্রীরা। দীর্ঘদিন সি-ট্রাক বন্ধ থাকার কারণে এপার-ওপারের যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জানা যায়, ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিপদজনক জোনে সি-সার্ভে বিহীন নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ। বিআইডব্লিউটিসির ‘শহীদ শেখ কামাল’ নামে একটি সি-ট্রাক চলছিল এ জোনে। যাত্রীরা জানান, অনেক পুরানো এ সি-ট্রাকটি উত্তাল মেঘনা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে এই রুটে। এরপর ঘাট ইজারাদার অবৈধভাবে ছোট একটি লঞ্চ দিয়ে উত্তাল মেঘনায় যাত্রী পারাপার করছেন। যাত্রীরা বলেন, ‘জরুরি কাজ থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট ট্রলারে করে আসা-যাওয়ার সাহস করেছি। এদিকে ব্যস্ত এই নৌ-রুটে প্রতিদিনই ব্যবসায়ীদের লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল আসে তজুমদ্দিনসহ অন্যান্য উপজেলা থেকে। অনেক ব্যবসায়ী ভয়ে মালামাল আনতে পারছেন না। আবার যারা ঝুঁকি নিয়ে মালামাল ছোট ট্রলারে করে আনার সাহস করছেন তাদের বেশীরভাগ মালামালই ঢেউয়ের ছিটকে পড়ে ভিজে যাচ্ছে। ফলে তাদের লাভের চেয়ে লোকসানের মাত্রাই বেশী হচ্ছে। এতে করে ব্যবসায়ীদের মাঝেও ক্ষোভের কমতি নেই।’ সরজমিনে হাজিরহাট ল্যান্ডিং ষ্টেশন ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, জেলা পরিষদ থেকে নেওয়া ঘাট ইজারাদার শাহজান মাঝির ছোট ট্রলারটি দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ইজারাদার প্রতিনিধি মো. মিলন জানান, সি-ট্রাক বন্ধ থাকায় ট্রলারে যাত্রী পারাপার করছেন। এই ট্রলারটি না থাকলে যাত্রীদের যাওয়া-আসা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেত। এ ব্যাপারে সি-ট্রাক পাওয়া ইজারাদার এস.কে ট্রেডার্স প্রতিনিধি ভূট্টো জানান, এই রুটের জন্য যে সি-ট্রাকটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা অত্যন্ত পুরনো। বেশীরভাগ সময়ই ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেয়। এজন্য কর্তৃপক্ষ নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে নিয়ে মেরামত করছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সি-ট্রাক চললেও অবৈধভাবে ছোট ট্রলার দিয়ে যাত্রী পারাপার করছেন অবৈধ কিছু ট্রলার মালিক।
বিআইডব্লিউটিসির সহকারী পরিচালক (ভোলা নদী বন্দর) সহিদুল ইসলাম জানান, ডেঞ্জার জোনে অবৈধভাবে সি-সার্ভে বিহীন নৌযান চলাচল করতে পারবে না। এই ধরনের নৌযান চলাচলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শামীম মিঞা বলেন, ‘পুরানো সি-ট্রাকটি বারবার বিকল হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তাই একটি নতুন সি-ট্রাক দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। সি-ট্রাকের অভাবে তিনি ও তার দপ্তরের কর্মকর্তাসহ যাত্রীদের ভোগান্তি হচ্ছে।’ অবৈধ ট্রলারে যাত্রী পারাপারের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তিনি জানান।

ফেসবুকে লাইক দিন