আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে চান? - বিস্তারিত
  • বুধবার, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং, ২৩শে জিলহজ্জ, ১৪৪৭ হিজরী
সর্বশেষঃ

“বরিশালে দ্রুত ছড়াচ্ছে এইচআইভি, ঝুঁকিতে তরুণ সমাজ”

“বরিশালে দ্রুত ছড়াচ্ছে এইচআইভি, ঝুঁকিতে তরুণ সমাজ”
//মো: আশরাফুল আলম //
বরিশাল: বরিশাল অঞ্চলে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি (এইডস) সংক্রমণ। আক্রান্তদের একটি বড় অংশই তরুণ ও শিক্ষার্থী, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। চিকিৎসকদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্কের কারণেই এই অঞ্চলের তরুণদের মধ্যে দ্রুত ছড়াচ্ছে এই মরণব্যাধি।
​বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) প্যাথলজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি মানুষের রক্ত পরীক্ষা করে ২০ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়। আশঙ্কার বিষয় হলো, আক্রান্তদের মধ্যে ১১ জনই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী।সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে বছরের শেষ দিকে। ২০২৫ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর—এই দুই মাসে মাত্র ২০৪ জনের রক্ত পরীক্ষা করতেই নতুন করে আরও ১১ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে আক্রান্তদের বেশির ভাগই পুরুষের সঙ্গে পুরুষের যৌনসম্পর্কে (সমকামিতা) যুক্ত ছিলেন। এমনকি একজন আক্রান্ত ব্যক্তির স্ত্রীর শরীরেও এই ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আক্রান্তদের একটি বড় অংশের বয়স ১৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।​সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে, বরিশালে প্রায় ৫ থেকে সাড়ে ৭ হাজার মানুষ উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত। দেশজুড়ে এইডস প্রতিরোধে সরকারি কর্মসূচি চালু থাকলেও, মাঠপর্যায়ে তা কতটুকু ভূমিকা রাখছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, গত এক বছরে দেশে প্রায় দুই হাজার নতুন এইডস রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেশি।বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক শৃঙ্খলার অভাব এবং সামাজিক অবক্ষয় তরুণদের এই মরণব্যাধির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপক বলেন, পারিবারিক ও সামাজিক তদারকি কমে যাওয়ার পাশাপাশি অনলাইনের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ প্রভাব তরুণদের আচরণগত পরিবর্তনে নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে তরুণদের মধ্যে দ্রুত সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।​শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক বলেন, এইচআইভি সংক্রমণ হঠাৎ করে বাড়ে না, এটি দীর্ঘ সময় ধরে বিস্তার লাভ করে। শুধু দক্ষিণাঞ্চল নয়, দেশের অন্যান্য এলাকাতেও সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরীক্ষার পরিধি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। সচেতনতা ছাড়া এই সংক্রমণ প্রতিরোধ কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।

ফেসবুকে লাইক দিন