আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে চান? - বিস্তারিত
  • শনিবার, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৩শে মে, ২০২৬ ইং, ৪ঠা জিলহজ্জ, ১৪৪৭ হিজরী
সর্বশেষঃ

ভোলা জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হলেন মোরশেদা বেগম

মোঃ ইকবাল হোসেন (বোরহানউদ্দিন): প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬-এ ভোলা জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক (মহিলা) নির্বাচিত হয়েছেন ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ১৬ নং আজাদ নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোরশেদা বেগম। এ অর্জনে শিক্ষা অঙ্গনে আনন্দের বন্যা বইছে।
জানা যায়, প্রথমে তিনি বোরহানউদ্দিন উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক (মহিলা) হিসেবে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে জেলার প্রতিযোগিতায়ও নিজের যোগ্যতা, দক্ষতা ও দীর্ঘদিনের শিক্ষাসেবার মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখে ভোলা জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
এর আগেও ২০২৩ সালে তিনি বোরহানউদ্দিন উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক (মহিলা) নির্বাচিত হয়ে প্রশংসিত হন। দীর্ঘ শিক্ষা জীবনে সততা, নিষ্ঠা ও মানবিক মূল্যবোধ দিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে আলোর পথ দেখিয়ে আসছেন তিনি। মোরশেদা বেগম ২০০৩ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ২০০৭ সালে সরাসরি প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
তিনি ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার একটি সম্ভ্রান্ত শিক্ষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম আব্দুল মালেক মাস্টার হাজীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন এবং মা হাসিনা বেগম একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষক পরিবারে বেড়ে ওঠা মোরশেদা বেগম ছোটবেলা থেকেই শিক্ষা ও নৈতিকতার আদর্শে গড়ে ওঠেন। তার স্বামী মোঃ ইকবালুর রহমান পটুয়াখালীর কালাইয়া খাদ্য গুদামে ওসিএলএসডি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে মোরশেদা বেগম বলেন, “আজকের এই অর্জন শুধু আমার একার নয়। আমার বাবা-মা, সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং আমার উপরস্থ কর্মকর্তাদের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতার ফলেই আমি এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি। ছোটবেলা থেকেই দেখেছি আমার বাবা-মা শিক্ষাকে মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ মনে করতেন। তাদের আদর্শ আমাকে আজও পথ দেখায়।
একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না, তিনি একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি শিক্ষার্থীদের শুধু বইয়ের শিক্ষা নয়, নৈতিকতা ও মানবিকতার শিক্ষাও দিতে। এই সম্মান আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছে। যতদিন দায়িত্বে থাকবো, ততদিন শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে কাজ করে যাবো। সবার দোয়া ও ভালোবাসা চাই।” মোরশেদা বেগমের এ অর্জনে বোরহানউদ্দিন উপজেলার শিক্ষক সমাজ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, তার এই সাফল্য উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নিতে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

ফেসবুকে লাইক দিন