আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে চান? - বিস্তারিত
  • শনিবার, ৯ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং, ১২ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরী
সর্বশেষঃ

তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, অসুস্থ বাবার চিকিৎসায় অসহায় পরিবার

মো. ছাইফুল ইসলাম (জিহাদ) লালমোহন, ভোলা: একসময় তিন চাকার নছিমন চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন মো. মিরাজ। তাঁর উপার্জনেই চলত স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার। স্বপ্ন ছিল সন্তানদের ভালোভাবে বড় করবেন, পরিবারের অভাব দূর করবেন। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা বদলে দিয়েছে তাঁর জীবনের চিত্র। শরীরের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে এখন শয্যাশায়ী তিনি। নিজের চিকিৎসা ও পরিবারের ভরণপোষণ চালাতে না পেরে মানবিক সহায়তার আকুতি জানিয়েছেন অসহায় পরিবার।
মিরাজ ভোলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের চরলক্ষ্মী গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মো. শফিউল্লাহ। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে বাড়ির ভিটা ছাড়া প্রায় সবকিছুই বিক্রি করে দিয়েছেন তাঁরা। তবুও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ হয়নি মিরাজের। শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটছে তাঁর পরিবারের।
মিরাজের সংসারে রয়েছেন স্ত্রী রিংকু বেগম, দুই মেয়ে ও এক ছেলে। বর্তমানে পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সামর্থ্য নেই তাঁর। ফলে প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে, ছোট সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং নিজের চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পুরো পরিবারের।
পরিবারের আশা, উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা হলে হয়তো আবারও কিছুটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন তিনি। এ জন্য সরকারের সহযোগিতা ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবার। পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ জানান, মিরাজ ইতোমধ্যে সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। চিকিৎসার জন্য আবেদন করলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁর কার্যালয় থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। একসময় যাঁর উপার্জনে সচল ছিল সংসার, আজ তাঁর চিকিৎসা ও পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে স্বজনদের। মিরাজের পরিবারের প্রত্যাশা, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষেরা এগিয়ে এলে তাঁর চিকিৎসার পথ কিছুটা হলেও সহজ হবে। সেই সহযোগিতাই হয়তো নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাবে মিরাজকে। অসহায় মিরাজের চিকিৎসা ও পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তাঁর স্ত্রী রিংকু বেগমের বিকাশ/নগদ নম্বর ০১৩২০৬২৪৬১৩-এ আর্থিক সহায়তা পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ফেসবুকে লাইক দিন

;