আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে চান? - বিস্তারিত
  • সোমবার, ৯ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং, ৯ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরী
সর্বশেষঃ

আন্দোলন-সংগ্রাম পেরিয়ে মন্ত্রিসভায় আন্দালিভ রহমান পার্থ

ভোলার খবর ডেস্ক: দীর্ঘদিন বিএনপি জোটের সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা এবং একাধিকবার কারাবরণের মধ্য দিয়ে পরীক্ষিত নেতা হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ অবশেষে মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। শুক্রবার রাতে মন্ত্রী হিসেবে তাঁর শপথ নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে ভোলায় তাঁর নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর হিড়িক পড়ে। জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মোতাছিন বিল্লাহ বলেন, দলের চেয়ারম্যানের মন্ত্রিত্ব পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা ছিল। তাঁর মন্ত্রী হওয়ার খবরে ভোলাবাসী আনন্দিত।
ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে পার্থের সামনে এখন স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের কিছু প্রত্যাশা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জও রয়েছে। নির্বাচনের আগে তিনি ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ, সরকারি মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, এবং ভোলার মজুত গ্যাসকে কাজে লাগিয়ে শিল্পায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
এদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষ থেকেও ভোলায় মেডিকেল কলেজ ও ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ফলে পার্থের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তিকে স্থানীয় অনেকে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন।
পার্থের মন্ত্রী হওয়ার খবরে শুক্রবার রাতে ভোলায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থের জন্ম ১৯৭৪ সালের ২০ এপ্রিল। তাঁর বাবা বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নাজিউর রহমান মঞ্জু ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র। তাঁর মা রেবা রহমান সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত।
পার্থের পৈতৃক বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের বালিয়া তালুকদার বাড়িতে। স্থানীয়ভাবে তাঁর পরিবারটি দীর্ঘদিনের পরিচিত ও প্রভাবশালী পরিবার হিসেবে পরিচিত।
২০০৮ সালের ৬ এপ্রিল বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর মৃত্যুর পর বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন পার্থ। একই বছর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাজনীতিতে প্রবেশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি তরুণদের মধ্যে পরিচিতি লাভ করেন। বিভিন্ন টেলিভিশন টকশোতে তাঁর সরব উপস্থিতিও তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।
পার্থ লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে তিনি ঢাকার সেন্ট যোসেফ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে তিনি আইন পেশায় যুক্ত হন এবং ঢাকায় আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ব্রিটিশ স্কুল অব ল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন।
পারিবারিক রাজনৈতিক পরিবেশেই পার্থের রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ২০০০ সালের দিকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
২০০৫ সালের ১৬ মার্চ ভোলায় বিএনপির আয়োজিত এক রাজনৈতিক প্রতিনিধি সম্মেলনে তাঁর রাজনৈতিক উপস্থিতি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। ওই সময় চারদলীয় জোটের নেতা নাজিউর রহমান মঞ্জু অসুস্থ থাকায় তাঁর পক্ষে শুভেচ্ছাবাণী পাঠ করেন পার্থ। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে এটিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের রাজনীতিতে পার্থের দৃশ্যমান উপস্থিতির অন্যতম সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
এরপর তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সময় তাঁকে একাধিকবার কারাবরণও করতে হয়েছে। এসব কারণে তিনি জোটের রাজনীতিতে একজন পরীক্ষিত নেতা হিসেবে পরিচিতি পান।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা অ্যাডভোকেট ইউছুফ হোসেন হুমায়ুনকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন পার্থ।
সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি সংস্থাপন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বর্জন করলে পার্থও নির্বাচনে অংশ নেননি। পরবর্তী সময়ে বিএনপি জোটের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ছিলেন।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্থ বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ওই নির্বাচনে তাঁর আসন ও প্রার্থিতা নিয়ে রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন আসে। ফলে তাঁর নির্বাচনী রাজনীতির পরবর্তী অধ্যায়ে ভোলা-১ আসনই আবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় পার্থকে কখনো বিরোধী দলের রাজপথের নেতা, কখনো সংসদ সদস্য, আবার কখনো জোটের আন্দোলন-সংগ্রামের অন্যতম সক্রিয় নেতা হিসেবে দেখা গেছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিজের দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্ব ধরে রেখেছেন।
একাধিকবার কারাবরণ, রাজপথের আন্দোলন, সংসদীয় রাজনীতি এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পর এবার তিনি সরকারের মন্ত্রী হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
তাঁর মন্ত্রিত্ব শুধু তাঁর রাজনৈতিক জীবনের নতুন অধ্যায় নয়; ভোলার মানুষের কাছেও এটি নতুন প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে। ভোলা-বরিশাল সেতু, মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং গ্যাসভিত্তিক শিল্পায়নের মতো দীর্ঘদিনের দাবিগুলো বাস্তবায়নে মন্ত্রী হিসেবে তিনি কতটা ভূমিকা রাখতে পারেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন জেলার মানুষ।
রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ পথচলার পর মন্ত্রিসভায় প্রবেশ তাই একই সঙ্গে তাঁর জন্য নতুন দায়িত্ব এবং ভোলাবাসীর জন্য নতুন প্রত্যাশার সূচনা।

ফেসবুকে লাইক দিন