ভোলায় ইএসডিওর উদ্যোগে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ

মোঃ মহিউদ্দিন মহিন: ভোলায় স্কুল থেকে ঝরে পড়া এবং কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনে আগ্রহী ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোলা সদরের গ্র্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
বেসরকারি সংস্থা ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) আয়োজিত এ চাকরি মেলায় সহযোগিতা করে ইউনিসেফ ও কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা)। মো. শাহরিয়ার মাহমুদ, প্রকল্প ব্যবস্থাপক, এএলপি ও হেড অব টিভেট, ইএসডিওর পরিচালনায় এবং সাবজেক্ট ম্যাটার এক্সপার্ট মো. সাজু ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত চাকরি মেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. বেলাল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল কুমার দাস, ইউনিসেফ বরিশাল বিভাগের চিফ ফিল্ড অফিসার মো. কাওসার হোসেন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক রজত শুভ্র সরকার, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ইকবাল হোসেন, জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহ আব্দুর রহিম নুরুন্নবী, এএলপি ইএসডিওর বরিশাল প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. মানিক মিয়াসহ ইএসডিওর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
আয়োজকরা জানান, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া এবং বাল্যবিয়ের ঝুঁকিতে থাকা ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তুলতে ইএসডিওর Alternative Learning Program (ALP) প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বিষয়ভিত্তিক কারিগরি প্রশিক্ষণ, অনানুষ্ঠানিক শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ।
চাকরি মেলায় ইএসডিও থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৮০ জন চাকরিপ্রত্যাশী নিবন্ধন করেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে ৬৯ জন চাকরি পেয়েছেন। পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে ১৫ জন উদ্যোক্তা হিসেবে নিবন্ধন করেন। তাদের মধ্যে ৭ জন উদ্যোক্তার জন্য ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ইএসডিওর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. শাহরিয়ার মাহমুদ বলেন, ইএসডিওর বাস্তবায়নে ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় Alternative Learning Program (ALP) প্রকল্পটি ভোলাসহ চারটি জেলায় চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া এবং বাল্যবিয়ের ঝুঁকিতে থাকা কিশোর-কিশোরীদের কারিগরি ও জীবনমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করাই এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।
চাকরি মেলায় অংশ নেওয়া প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ-তরুণীরা নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন ও সাক্ষাৎকারে অংশ নেন। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
