সীমাহীন নজরুল

সীমাহীন নজরুল
মো: আশরাফুল আলম
২৫/০৫/২০২৬
==========================
তোমার তরে কী আর লিখব কবি!
লিখতে গেলেই কলম থমকে দাঁড়ায়,
আকাশের বুকে তোমার দ্রোহের ছবি
আজও মোদের মরা প্রাণে হাত বাড়ায়।
আমি যে শিখিনি বুক চিরে গান গাওয়া,
ঝড়ের মতন শিকল ভাঙার হাওয়া!
কোথা হতে পেলে এত যে তীব্র সুর?
বুকের ভেতর কিসের ওমন আগুন?
ধুলোমাখা সেই চেনা দুঃখের পুর—
কেমন করে যে ফুটিয়ে তুলত ফাগুন!
আধপেটা খেয়েও গেয়েছ সাম্যের গান,
বিলিয়ে দিয়েছ নিজেরে, সঁপেছ প্রাণ।
কী করে এমন শান্ত ও অশান্ত,
একই সাথে তুমি ছিলে যে যুগল রূপ?
দুর্গম পথে হেঁটে হেঁটে অবসান্ত—
হওনি তো কভু, জ্বলেছ মোমের স্তূপ।
আজও ভাবি আমি বিষাদের সেই রাতে,
কেমন করে যে সুর দিলে এক হাতে!
শুধু তো আগুন, শুধু তো বিদ্রোহ নয়,
তুমিও তো দিলে প্রেমেরও অতল বাণী,
তোমার গানের সুরে সুরে দূর হয়
জগতের যত মলিনতা, হানাহানি।
এক হাতে তব বাঁশের বাঁশরিখানি,
আর হাতে নিলে রণ-তূর্যকে টানি!
মানুষেরে তুমি বেসেছ ভালো যে শুধু,
ভোলনি তো কভু মানুষের অধিকার,
ভেদাভেদহীন মরুর বুকেতে ধু-ধু—
এনেছ জোয়ার ভাঙতে অন্ধকার।
আজানের সুরে, গীতার শ্লোক ও গানে,
সবাইকে তুমি টেনেছ নিজের প্রাণে।
শৃঙ্খল ভেঙে জাগুক নতুন ভোর,
তোমারি চেতনায় কাটুক মনের মোহ;
ছিঁড়ে যাক আজ কপটতার এই ডোর,
ফিরে আসুক সেই প্রেম আর পরম দ্রোহ।
বিস্ময়ে খুঁজি তোমারি সে মহিমা,
নজরুল তুমি, তোমার যে নেই কোনো সীমা!
