আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে চান? - বিস্তারিত
  • মঙ্গলবার, ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং, ১৫ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরী
সর্বশেষঃ

সিয়াম সাধনায় সংযমে হোক আত্মশুদ্ধি ও শরীরের যত্ন

হাকীম মোঃ রাজিউর রহমান

ডিইউএমএস, বিইউএমএস, (ঢাকা)

পবিত্র রমজান আমাদের আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য ও তাকওয়া অর্জনের মহিমান্বিত মাস। এ মাসে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে, নফসকে নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে। কিন্তু রোজা কেবল আধ্যাত্মিক অনুশীলনই নয়—এটি শারীরিক ও মানসিক সুস্থতারও এক অনন্য প্রশিক্ষণ। তাই ইবাদতের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচেতনতা অপরিহার্য।

রমজানে দীর্ঘ সময় উপবাস থাকার ফলে শরীরে পানিশূন্যতা, রক্তে শর্করার তারতম্য ও হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ জন্য সেহরি ও ইফতারে পরিমিত, পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেহরি দিনের শক্তির ভিত্তি—এ সময় ভাত/রুটি, ডাল, ডিম, দুধ, শাকসবজি ও ফলমূল গ্রহণ করলে শরীর দীর্ঘ সময় কর্মক্ষম থাকে। অতিরিক্ত তেল, লবণ ও মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উত্তম।

ইফতার শুরু হোক খেজুর ও পানি দিয়ে—যা সুন্নাহ ও তাৎক্ষণিক শক্তির উৎস। সারাদিন উপবাসের পর হঠাৎ অতিভোজন শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই ফল, ছোলা, স্যুপ ও হালকা খাবার গ্রহণ করে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক খাদ্যে ফিরতে হবে। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত, যাতে শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় থাকে।

ভেষজ ও প্রাকৃতিক উপাদান যেমন—ইসুবগুল, মধু, কালোজিরা, লেবু ও দই—হজমশক্তি বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম, নিয়মিত সালাত আদায় এবং ইফতারের পর হালকা হাঁটা শরীর ও মনে প্রশান্তি আনে।

বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের উচিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোজা পালন করা। অসুস্থতা দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

রমজান আমাদের সংযম শেখায়—খাদ্যে, আচরণে ও ব্যয়ে। তাই অপচয় পরিহার করে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোও এ মাসের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

আসুন, ইবাদতের এই পবিত্র সময়ে আমরা স্বাস্থ্যসচেতন হই, সংযমী হই এবং সুস্থ জীবনযাপনের অঙ্গীকার করি।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলের সিয়াম ও ইবাদত কবুল করুন এবং সুস্থ, সুন্দর ও কল্যাণময় জীবন দান করুন। আমিন।

ফেসবুকে লাইক দিন

;