স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা

//মো:আশরাফুল আলম//
শিক্ষাব্যবস্থায় নিয়োগ বাণিজ্যের কালো অধ্যায় মুছে দিতে যখন স্বচ্ছতার নতুন সূর্যোদয় ঘটছে, তখনই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে পুরনো সিন্ডিকেট। মেধার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের ঐতিহাসিক উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতে একদল সুবিধাভোগী মহলের তৎপরতা এখন সচেতন মহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে
দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান প্রধান (অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক) নিয়োগের বর্তমান প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের ‘নিয়োগ বাণিজ্য’ বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সময়োপযোগী এই উদ্যোগকে যখন সচেতন মহল সাধুবাদ জানাচ্ছে, তখন একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরীক্ষা পদ্ধতির বিরোধিতা করে সাবেক ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার দাবি তুলেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগে যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দিতে যে নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করেছে, তা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত ১৮ এপ্রিল প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষক প্রতিষ্ঠান প্রধান হওয়ার দৌড়ে ঢাকায় ৮০ নম্বরের এমসিকিউ (MCQ) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। ইতিমধ্যে এর ফলাফলও প্রকাশিত হয়েছে। সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীর তদারকিতে পরিচালিত এই প্রক্রিয়াটি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিশৃঙ্খলা দূর করার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, অতীতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান নিয়োগ ছিল দলীয়করণ ও বিশাল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের চারণভূমি। ম্যানেজিং কমিটি বা পরিচালনা পর্ষদকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ না দিয়ে পদ পাওয়ার ঘটনা ছিল বিরল। ফলে যোগ্য ব্যক্তিরা বঞ্চিত হতেন এবং প্রতিষ্ঠানের মান নিম্নগামী হতো। বর্তমান সরকারের এই মেধাতান্ত্রিক উদ্যোগের বিপরীতে একদল লোক সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে এনটিআরসিএ-র (NTRCA) মাধ্যমে নিয়োগ বাতিলের দাবি তুলেছে। সচেতন নাগরিকদের মতে, এরা মূলত পুরাতন দুর্নীতির পথ পুনরায় চালু করতে চায়।
২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগে তাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। এ পর্যন্ত ৭টি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে লক্ষাধিক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা মেধারী শিক্ষার্থীদের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এখন আরও বড় পরিসরে এবং উচ্চতর পদে মেধা যাচাইয়ের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
শিক্ষানুরাগী ও সচেতন মহলের দাবি, রাষ্ট্র যেমন নাগরিকের অধিকার রক্ষা করে, তেমনি অন্যায্য দাবি বা দুর্নীতির সুযোগ চাওয়াদের কঠোর হাতে দমন করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এনটিআরসিএ-র মাধ্যমে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে পিছিয়ে আসা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।
“কোনোভাবেই মেধা যাচাইয়ের এই প্রক্রিয়া থেকে পিছু হটা চলবে না। যারা পরীক্ষা পদ্ধতির বিরোধিতা করছে, তাদের আসল উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা দরকার। স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা বজায় না থাকলে সরকার প্রচণ্ড সমালোচনার মুখে পড়বে এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আবার অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে।”
সরকার সকল বাধা উপেক্ষা করে যোগ্য শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের এই সাহসী ধারা অব্যাহত রাখবে—এমনটাই প্রত্যাশা দেশবাসীর।
