ভোলা জেলায় টাইফয়েড টিকা রেজিস্ট্রেশন ৫ লাখ অতিক্রম স্বাস্থ্য বিভাগের অসাধারণ সাফল্যে আনন্দের জোয়ার

মোঃ মহিউদ্দিন: ভোলা জেলায় স্বাস্থ্য সেবার ইতিহাসে নতুন মাইলফলক রচনা করেছে টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি। জেলার সর্বত্র জনগণের সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে টাইফয়েড টিকার রেজিস্ট্রেশন সংখ্যা ইতোমধ্যে ৫ লাখ অতিক্রম করেছে। এ অর্জনকে কেন্দ্র করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে দেখা দিয়েছে আনন্দ ও গর্বের এক অনন্য পরিবেশ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সরকারের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভোলা জেলার সাতটি উপজেলা ও পৌর এলাকায় টাইফয়েড টিকা প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল কয়েক মাস আগে। শুরু থেকেই স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষক ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সাধারণ জনগণকে টিকা গ্রহণে উৎসাহিত করা হয়।
জেলার সিভিল সার্জন (অথবা জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা) এক বিবৃতিতে বলেন,“ভোলা জেলার মানুষের সহযোগিতা এবং আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের নিবেদিত প্রচেষ্টার ফলেই টাইফয়েড টিকার রেজিস্ট্রেশন ৫ লাখ ছাড়িয়েছে। এটি শুধু একটি সংখ্যাগত সাফল্য নয়, বরং জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার প্রতিফলন।” তিনি আরও বলেন, “আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই ভোলা জেলার সকল স্বাস্থ্যকর্মী, মেডিকেল টিম, এনজিও, গণমাধ্যম, শিক্ষক সমাজ এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহকে। তাদের অবদান ছাড়া এই সাফল্য সম্ভব ছিল না।” টাইফয়েড টিকাদান কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে টাইফয়েড সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, টাইফয়েড একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ যা দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। এ রোগে আক্রান্ত হলে জ্বর, পেট ব্যথা ও দুর্বলতা দেখা দেয়। নিয়মিত টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এই রোগ থেকে কার্যকরভাবে সুরক্ষা পাওয়া যায়। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ভোলা জেলাকে “টাইফয়েডমুক্ত জেলা” হিসেবে গড়ে তুলতে তারা অব্যাহতভাবে টিকাদান কর্মসূচি ও সচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। ভোলার এই অর্জন গোটা দেশের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও জনসচেতনতার মাধ্যমে ভোলা প্রমাণ করেছে—স্বাস্থ্যসেবায় সফলতা সম্ভব, যদি সবাই মিলে কাজ করা যায়।
