আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে চান? - বিস্তারিত
  • মঙ্গলবার, ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ইং, ১৪ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরী
সর্বশেষঃ

ভোলা পলিটেকনিকেল ইনস্টিটিউটে ‘চাকরি মেলা’ অনুষ্ঠিত

মোঃ সাইফুল ইসলাম আকাশ: ভোলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে কারিগরি শিক্ষার প্রসারে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জব ফেয়ার (চাকরি মেলা) অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনব্যাপী আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চাকরি প্রার্থী, চাকরিদাতারা উপস্থিত ছিলেন। ২৮ জানুয়ারি বুধবার দুপুরে ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভোলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ(ভারপ্রাপ্ত) মোঃ জহিরুল ইসলাম।
সভাপতির বক্তব্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন,চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। আমরা চাই প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন ক্যাম্পাস থেকেই কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা পায়। আজকের এই জব ফেয়ার সেই লক্ষ্যেরই একটি বড় পদক্ষেপ। আমরা বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির সাথে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছি, যা আমাদের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ এবং হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।”
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসক মনোরঞ্জন বর্মন। প্রধান অতিথির বক্তব্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন,কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন মানেই জাতীয় উন্নয়ন। শিল্প মালিকরা এখন সনাতনী ডিগ্রির চেয়ে প্রায়োগিক দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ভোলা পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে দেশের বড় বড় শিল্প গ্রুপে জায়গা করে নিচ্ছে, যা ভোলা তথা সারা দেশের জন্য গর্বের। ভোলা পলিটেকনিকেল ইনস্টিটিউটে আজকে যেই সেমিনার করেছেন এর জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষকে
ধন্যবাদ জানান তিনি। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভোলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মফিকুল ইসলাম,উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রনজিৎ চন্দ্র দাস। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আমিনুল ইসলাম বিভাগীয় প্রধান ননটেক।
মেলায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়,শিক্ষার্থীরা জানান, “এতদিন শুধু ইন্টারভিউয়ের গল্প শুনেছি, আজ সরাসরি বড় বড় কোম্পানির এইচআর (HR) কর্মকর্তাদের সামনে কথা বলতে পেরে আমার ভয় কেটে গেছে। সিভিতে কী কী ভুল ছিল, তাও তারা ধরিয়ে দিয়েছেন।” আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “ক্যাম্পাসেই সরাসরি ইন্টারভিউ দিয়ে চাকরির প্রাথমিক সিলেকশনে থাকতে পারাটা স্বপ্নের মতো।তারা বলেন, “আগে জানতাম না ইন্টারভিউ বোর্ডে কীভাবে কথা বলতে হয়। আজ সরাসরি বড় কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে আমাদের ভয় কেটে গেছে। ক্যাম্পাসে বসেই চাকরির আবেদন করতে পারা আমাদের জন্য বড় সুযোগ।”
তারা বলেন,অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের সাথে আজ আমাদের ইনস্টিটিউটের চুক্তি হয়েছে। এখন থেকে আমরা নিশ্চিতভাবে দেশের বড় বড় কোম্পানিতে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ পাব, যা ক্যারিয়ারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।” এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন এ.কে এম তৌফিকুল ইসলাম, চীফ ইন্সট্রাক্টর ও ফোকাল পয়েন্ট এসেট,মোঃ মুজিব আলম, একাডেমিক ইনচার্জ ভোলা পলিটেকনিকেল ইনস্টিটিউট। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় ৯ টি শিল্প ও আইটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে, যেখানে কয়েকশ শিক্ষার্থী তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার পাশাপাশি সরাসরি নিয়োগ সাক্ষাৎকারে (ইন্টারভিউ) অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয় এবং শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার গাইডলাইন বিষয়ক বিশেষ সেশন থেকে ভবিষ্যতের কর্মজীবন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করেন। এছাড়া ও চাকরি মেলায় ভোলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পাসকৃত নতুন ও অভিজ্ঞ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারবৃন্দ তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপন করেন। এতে প্রতিষ্ঠান একাডেমিশিয়ানবৃন্দ নিয়োগকর্তা ও নিয়োগ প্রত্যাশীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেন। চাকরি প্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ লাভ করেন। এই জব ফেয়ারে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক জীবন বৃত্তান্ত সংগ্রহ, ভাইভা গ্রহণ এবং নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। শেষে অংশগ্রহণকারী স্টলকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন অতিথিরা।

ফেসবুকে লাইক দিন