বোরহানউদ্দিনে মাদকাসক্ত চক্রের হামলায় আহত ৩: থানায় লিখিত অভিযোগ

বোরহানউদ্দিন ভোলা প্রতিনিধিঃ ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা ১নং ওয়ার্ডে মাদকাসক্ত একটি চক্রের হামলায় আবুল হোসেনসহ তিনজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আবুল হোসেন বোরহানউদ্দিন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবুল হোসেন (৩৫), পিতা আব্দুল আলী, বড় মানিকা ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এলাকার দুষ্কৃতকারী হিসেবে পরিচিত শাকিল, নয়ন, আবাস, সাকিম, বিবি ফাতেমা ও অজ্ঞাত আরও ৩–৪ জন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদক সেবন-বিক্রয়ে লিপ্ত। লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ২৩ নভেম্বর রাত সাড়ে ৭টার দিকে অভিযুক্তরা তাঁর বাড়ির পাশে মাদক সেবন করছিল। এ সময় সরে যেতে বললে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আবুল হোসেনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং অতর্কিতে হামলা চালায়। লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। একপর্যায়ে শাকিল তাঁকে গলা চেপে ধরে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কোপ মারেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি। আবুল হোসেনের চিৎকারে এগিয়ে আসা শামিম, রাব্বি ও আবু তাহেরও হামলার শিকার হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আহতদের মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আবুল হোসেন বলেন,“ওরা নিয়মিত মাদক সেবন ও বিক্রি করে। প্রতিবাদ করায় আমাকে পাশবিকভাবে হামলা করেছে। আমি ন্যায়বিচার চাই স্থানীয় এক বাসিন্দা মোঃ আবু তাহের বলেন,“এই এলাকায় কিছু যুবক আসলেই মাদকের সঙ্গে জড়িত। মাঝে মাঝেই গোলমাল হয়। ঘটনার সময় আমরা দৌড়ে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করেছি।” আরেকজন স্থানীয় মহিলা বাসিন্দা বলেন, “আমরা সাধারণ মানুষ আতঙ্কে থাকি। যখন যা খুশি করে এসব ছেলেপেলেরা। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিলে ভালো হয়।” এ ছাড়া স্থানীয় যুবক আসিফ বলেন, “আবুল ভাই কখনো কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন না। তাঁর ওপর এমন হামলা খুবই দুঃখজনক। আমরা চাই পুলিশ দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক।” এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাকিল, নয়ন,আব্বস কে পাওয়া যায় নি, তবে শাকিলের স্ত্রী সুমা বেগম জানান, আমার স্বামী মাদক খায় কিন্তু বেচে না। এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ এগুলো খায়। শাকিল বাবা মোকলেছ মাল জানান,আমার ছেলেকে মাদক সেবনে নিষেধ করি সে শোনে না তবে সে মাদক বিক্রি করে না। বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছে, অভিযোগটি গৃহীত হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
