জলসিঁড়ি সাহিত্য আসরের ৬ষ্ঠ আড্ডায় গল্প-কবিতার রঙে রঙিন এক বিকেল

মোঃ মহিউদ্দিন: ভোলার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে সাহিত্য প্রেমীদের প্রাণের সংগঠন “জলসিঁড়ি সাহিত্য আসর”—এর ৬ষ্ঠ সাহিত্য আড্ডা যেন এক অনন্য আয়োজন হয়ে উঠেছিল। শনিবার, ৮ নভেম্বর বিকাল সাড়ে চারটায় ভোলা প্রেসক্লাবের হলরুমে যখন সূর্যের শেষ আলো শহরটিকে সোনালি আভায় রাঙিয়ে দিচ্ছিল, তখন সেই সময়টিই ভরে উঠেছিল শব্দ, ছন্দ আর আবেগে।
সাহিত্য আড্ডার সঞ্চালনায় ছিলেন কবি আবৃতি শিল্পী এস. এম. বাহাউদ্দিন, তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থাপনা পুরো অনুষ্ঠানটিকে এক আলোকিত ছন্দে বেঁধে রেখেছিল। আসরের আহ্বায়ক শাহাবউদ্দিন শামীম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আড্ডায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যপ্রেমী ড. ফিরোজ মাহমুদ, সাহিত্যসেবী শাহাবউদ্দিন রিপন শান, বিশিষ্ট সমাজসেবক কবি ও সাংবাদিক মোঃ নেয়ামত উল্যাহ, কবি ও সাহিত্যানুরাগী মোঃ আব্দুল বারেক মিয়া, কবি মোঃ কামাল হোসেন শাহীন, প্রভাষক কামরুল হাসান এবং সাংবাদিক জুন্নু রায়হান। আড্ডার শুরুতেই আহ্বায়ক শাহাবউদ্দিন শামীম উপস্থিত অতিথি ও সাহিত্যপ্রেমীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “সাহিত্য আমাদের আত্মার জ্বালানি, এটি সমাজকে আলোকিত করে। জলসিঁড়ি সাহিত্য আসর সেই আলো ছড়াতেই এগিয়ে চলেছে।” এরপর একে একে শুরু হয় কবিতা পাঠ, গল্পপাঠ ও আলোচনা। কবিতা পাঠে মন ছুঁয়ে যায় কবি কামরুন্নাহার–এর কাব্যধ্বনি, কবি বিলকিস জাহান মুনমুন–এর আবেগঘন কাব্যরচনা, এবং কবি শাহনাজ পারুল–এর সংবেদনশীল অনুভবময় কবিতায়। গল্পপাঠে দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হন মোঃ জুলফিকার আলী ও মীর মোশারেফ অমি–র গল্পে, যেখানে জীবনের ক্ষুদ্র সুখ-দুঃখ ও সমাজবাস্তবতা অনবদ্যভাবে উঠে আসে। সাহিত্য বিষয়ক আলোচনায় অংশ নেন রিপন শান, কবি আল মনির, জে. এম. ফিরোজ, এবং চৌধুরী সাব্বির আলম। তাঁরা সাহিত্যচর্চার ধারাবাহিকতা ও তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন। বিশেষ আলোচক হিসেবে সিনিয়র লেকচারার ডাঃ মোঃ মহিউদ্দিন মহিন, যিনি একজন কবি, সাহিত্যিক ও জলসিঁড়ি সাহিত্য আসরের সম্মানিত সদস্য সচিব—তিনি বলেন, > “সাহিত্য কেবল শব্দ নয়, এটি এক অনন্ত অনুভূতির সেতুবন্ধন। ভোলার মতো একটি জনপদে এমন সাহিত্যচর্চা আমাদের সমাজকে মানবিকতার নতুন আলোয় উদ্ভাসিত করবে।” পুরো বিকেলটি যেন কাব্যের সুরে, ভালোবাসার ছোঁয়ায় এবং মেলবন্ধনের উচ্ছ্বাসে ভরে উঠেছিল। আড্ডার প্রতিটি মুহূর্তে ছিল সাহিত্যপ্রেমীদের প্রাণচাঞ্চল্য। পরস্পরের কবিতা বিনিময়, গল্পপাঠ, হাসি, করতালি—সব মিলিয়ে যেন এক জীবন্ত সাহিত্য উৎসবের আবহ তৈরি হয়। শেষ পর্বে উপস্থিত সাহিত্যিকদের পক্ষ থেকে আহ্বায়ক শাহাবউদ্দিন শামীম ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং আগামীর সাহিত্য আড্ডাগুলোকে আরও বৃহত্তর পরিসরে আয়োজনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ভোলার হৃদয়ে সাহিত্যচর্চার এমন সজীব ধারা “জলসিঁড়ি সাহিত্য আসর”-কে কেবল একটি সংগঠন নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনে রূপ দিয়েছে। এই আসর ভোলার তরুণ ও প্রবীণ সাহিত্যিকদের মেলবন্ধনের এক অনন্য মঞ্চ হয়ে উঠছে—যেখানে শব্দের স্রোতে গড়ে ওঠে অনুভূতির জলসিঁড়ি, যা ছুঁয়ে যায় মন ও মগজের অন্তর্লোক।
