গণতন্ত্রের রূপরেখা; মো: জাকির হোসেন চৌধূরী

ভোলার খবর ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতন্ত্রের ধারণা বারবার বিতর্কিত হয়েছে। অতীত থেকে বর্তমান—সব মিলিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দ্বৈত মানদণ্ড কার্যকর হওয়ায় জনমনে অনিশ্চয়তা ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অতীত অভিজ্ঞতা: পূর্ববর্তী নির্বাচন কমিশন বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি, জামায়াতসহ বেশকিছু দলকে নির্বাচনের বাইরে রেখে নির্বাচন আয়োজন করেছিল। সেই সময় কমিশনের বক্তব্য ছিল— “গণতন্ত্র রক্ষায় আমরা সবাইকে নিয়ে নির্বাচন করছি।” কিন্তু প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো বাদ পড়ায় সেই নির্বাচন বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি: এখন উপদেষ্টা পরিষদ ও বর্তমান নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি সহ প্রায় বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলকে বাইরে রেখে নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে।
আবারও বলা হচ্ছে— “গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে কাজ চলছে।” ফলে জনগণের মনে প্রশ্ন: গণতন্ত্র কাদের অংশগ্রহণে প্রতিষ্ঠিত হয়?
জনগণের মৌলিক প্রশ্ন:
১. গণতন্ত্রের প্রকৃত রূপরেখা কী?
২. জনগণ কবে বুঝবে তারা সত্যিকারের গণতান্ত্রিক পরিবেশে বসবাস করছে?
৩. বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন কতটা বৈধ ও গ্রহণযোগ্য? এছাড়াও পর্যবেক্ষক সংস্থা নিয়ে বিতর্ক: বর্তমান নির্বাচন কমিশন পূর্বের নিবন্ধিত পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে “ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর” আখ্যা দিয়ে বাতিল করেছে। নতুন সংস্থা নিবন্ধনের উদ্যোগ নেয়া হলেও দেখা যাচ্ছে—৯০% সংস্থা অনভিজ্ঞ। ইতিমধ্যে পর্যবেক্ষক সংস্থা নিবন্ধন বিষয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতার ছাপ উঠে এসেছে। প্রশ্ন উঠছে: তাহলে কি আবারও একটি নির্দিষ্ট নীলনকশার পথে হাঁটছে নির্বাচন কমিশন? পরিশেষে বলছি; যদি এই ধারা চলমান থাকে, তবে গণতন্ত্র শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে। জনগণের আস্থা, অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতা ছাড়া কোনো নির্বাচনী প্রক্রিয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। কমিশন কর্তৃক বর্তমান খসড়াকৃত পর্যবেক্ষক সংস্থা গুলোর সংশোধনসহ
এখন জরুরি প্রয়োজন একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনী রূপরেখা, যেখানে সব দলের উপস্থিতি নিশ্চিত হবে এবং জনগণ প্রকৃত অর্থে অনুভব করবে তারা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বাস করছে। মো: জাকির হোসেন চৌধূরী, নির্বাহী পরিচালক, অগ্রদূত সংস্থা-এএস
