সৎ ও আদর্শবান কর্মকর্তার বদলিতে ব্যথিত বোরহানউদ্দিনবাসী

মোঃ ইকবাল হোসেনঃ বোরহানউদ্দিন (ভোলা): ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন মোঃ মেহেদী হাসান। তাঁর সততা, নৈতিকতা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো উপজেলায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। একজন সৎ কর্মকর্তার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ যে সরকারি সেবা পেতে পারে, তিনি তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
উপজেলা ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে দালালদের দৌরাত্ম্য ছিল, যা সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এসিল্যান্ড মেহেদী হাসান কঠোর হাতে সেই অনিয়ম দমন করে ভূমি সেবায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন। শুধু তা-ই নয়, ৫ আগস্ট পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অবৈধ ড্রেজার, দখলদার এবং প্রভাবশালী অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাঁর বলিষ্ঠ পদক্ষেপ পৌরসভার চেহারাই পাল্টে দেয়। এর ফলে তিনি অল্প সময়েই সর্বমহলে প্রশংসিত হন। তিনি গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠেন। তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্ত ছিল সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমুখী। তাই হঠাৎ তাঁর বদলির খবরে পুরো উপজেলাবাসী ব্যথিত ও হতাশ। স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন, বদলি সরকারি চাকরির একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও, যে কর্মকর্তা জনস্বার্থে এমন যুগান্তকারী পরিবর্তন আনেন, তাঁর হাতে নেওয়া কাজগুলো শেষ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে, “জনগণের জন্য ভালো কাজ করার কারণেই কি তাকে দ্রুত বদলি করা হলো?” উপজেলাবাসী সরকারের কাছে এই বদলির আদেশ বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, মোঃ মেহেদী হাসানের মতো কর্মকর্তারা হলেন রাষ্ট্রের প্রকৃত সম্পদ, যারা সরোয়ার আলম, কিংবা আকবর আলী খানের মতো সৎ ও আদর্শবান কর্মকর্তাদের প্রতিচ্ছবি। সুন্দর, সুখী ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে এমন কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। তাই বোরহানউদ্দিনবাসীর একান্ত আবেদন, কর্তৃপক্ষ যেন মোঃ মেহেদী হাসানের বদলির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেন এবং তাঁকে বোরহানউদ্দিনেই রেখে দেন।
