আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে চান? - বিস্তারিত
ঢাকা আজঃ শনিবার, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ ইং, ৫ই মুহাররম, ১৪৪৬ হিজরী
সর্বশেষঃ

দ্যা সিক্রেট ম্যান- তাকি আহমাদ

ভোলার খবর ডেস্ক: একদিন অনেক বড়ো হবো। গোটা বিশ্ব এক নামে চিনবে,কবি আদনান মাহমুদ। অনেক বড়ো লেখক হবো। আমার লেখাগুলো মানুষকে সঠিক পথ দেখাবে।সবেমাত্র নবম শ্রেণিতে পড়ি। স্বপ্নগুলো গগণছোঁয়া।যেদিন শোনলাম,লক্ষহীণ জীবন কাণ্ডারহীন নৌকার মতো,সেদিনই লক্ষগুলো ঠিক করে পেললাম।তবে বারবার একটা জিনিস সৃবপ্নগুলোর পথ আগলে দাঁড়ায়। তা হলো,আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান।আমি কেন আকাশচুম্বী স্বপ্ন দেখি? ব্যালকুনিতে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বারবার ভাবছি আর বলছি মধ্যবিত্ত বলে কী স্বপ্ন দেখা অপরাধ? একটা স্মার্ট ফোনের খুব প্রয়োজন।মনে মনে ভাবলাম,সন্ধ্যায় আব্বু বাসায় ফিরলে ফোন কিনে দেওয়ার কথা বলব।তিনি হয়তো ফিরাবেন না।
থালার মতো লাল সূর্যটা এতক্ষণে পৃথিবীকে বিদায় জানিয়ে চলে গেলেন রবের সমীপে। মিনার থেকে ভেসে আসছে আল্লাহু আকবরের ধ্বনি। কদম রাখলাম রবের আদেশ পালনার্থে। নামাজ শেষে দুহাত তুলে আরজি পেশ করলাম, রব!মধ্যবিত্তের সন্তান বলে কি মোর স্বপ্ন দেখা অপরাধ? হঠাৎ কর্ণদ্বয়ে ভেসে আসলো ‘না’ নমাক একটি শব্দ। স্বপ্ন দেখাতো কোনো অপরাধ নয়। মুনাজাত শেষ করে পেছনে ফিরে তাকালাম। নাজিব স্যার দাঁড়িয়ে আছেন। সালাম দিয়ে করমর্দন করলাম।
দুশ্চিন্তার নিয়ামত উপভোগ করছো বুঝি? স্যার বললেন।
কিছুটা, আমি বললাম।
স্যারকে সব খুলে বললাম। স্যার হাসিমুখে বললেন,“চেষ্টা করো সফলতা রব দিবেন”। স্যারের কথায় এক স্বর্গীয় প্রশান্তি খুঁজে পেলাম। স্যারকে বিদায় সালাম দিয়ে বাসার দিকে কদম রাখলাম।
এতক্ষণে আব্বু বাসায় ফিরেছেন। বুক ভরা আশা নিয়ে আব্বুর কাছে গেলাম। সোফায় বসে আছেন।আব্বুর ঘাম ঝরানো মলিন মুখটা দেখে, মায়ের পরিশ্রমের কথা ভেবে স্বপ্নকে ডাস্টবিনের আবর্জনায় পুঁতে রাখলাম। অজস্র ব্যাথা নিয়ে যেই রুম থেকে বের হতে যাব,আব্বু পেছন থেকে আদনান বলে ডাক দিলেন।
“জী”-বলে উত্তর দিলাম।
“কিছু বলবা”আব্বু বলল।
আম্মুর ইশারায় না শব্দ খুজে পেলাম।“জী না আব্বু” বলে রুম থেকে বের হয়ে গেলাম। রুমে একা বসে আছি। মনটা বড়ই বিষণ্ণ। কখনো কল্পনাতেও আসেনি যে,স্বপ্নগুলো এভাবে পুঁতে রাখতে হবে। আম্মু রুমে প্রবেশ করলেন।“ বাবা এদিকে আসো” দৌড়ে এসে আম্মুকে জড়িয়ে ধরলাম। মাথায় হাত বুলিয়ে আম্মু বলল-‘কাদেসনে বাবা, আমি তোকে স্মার্টফোন কিনে দিব। আম্মু মুকে ফোনের কথা শুনে থতমত খেয়ে গেলাম। অবাক হওয়ার কিছু নেই,স্যার সব বলেছেন। আম্মু এতো টাকা কোথায় পাবে তুমি? চিন্তা করিসনে ব্যবস্তা হয়ে যাবে। তোর আব্বুকে কিছু বলিসনে। আমি তাকে বুঝিয়ে বলে দেখি।
রাত প্রায় নটা। নিস্তব্ধ সব। হয়তো প্রাকৃতিও আঁধারের কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে। আচমকা আব্বুর আওয়াজ শোনতে পেলাম। “মধ্যবিত্তদের এতো কীসের স্বপ্ন,মধ্যবিত্তদের এতো স্বপ্ন দেখতে নেই। ওকে ফোন কিনে দেওয়া যাবেনা”।
ব্যালকুনুতে দাঁড়িয়ে আছি। থালার মতো চাঁদখানি মেঘের আড়ালে উঁকি দিচ্ছে। যদি দূর আকাশে ভেসে বেরানো চাঁদের মতো হতে পারতাম। মানবমণ্ডলির সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিতে পারতাম। হয়তোবা কষ্টগুলো কিছুটা লঘু হতো। হঠাৎ ঘুমনামক এক মহা পালওয়ান প্রাকৃতির সঙ্গে-সঙ্গে চোখ দুটোকে ঝাপটে ধরলো।
সকালের সোনালি রোদের তেজস্রয়ী আলোতে আদনানের ঘুম ভাঙলো। চোখ মেলতেই দেখলো বালিশের পাশে রাখা একটি ল্যাপটপ। আদনান মহাখুশি! এবার স্বপ্নগুলো পূরণ হতে চলছে। দৌড়ে আম্মু রুমে চলে আসল। “ল্যাপটপ কিনার জন্য এতো টাকা কই পাইছো”? আমি বললাম।
“তোমার আন্টির কাছ থেকে নিয়েছি,চিন্তা করো না আম্মু পরিশোধ করে দিব”। সাবধান! লেখাপড়ার যেন কোন ক্ষতি না হয়। আচ্ছা আম্মু।
ল্যাপটপ নিয়ে সাজিদের বাসায় গেলাম। সাজিদ একজন সফল ইউটিউবার। নেট জগতে তার বেশ জ্ঞান রয়েছে। শৈশবের বন্ধু। সুখ-দুঃখের সময়গুলো একসাথে কাটিয়েছি। আমার হাতে ল্যাপটপ দেখা মাত্রই চমকে গেল। ( চলবে )

ফেসবুকে লাইক দিন