আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে চান? - বিস্তারিত
  • মঙ্গলবার, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং, ২৮শে জিলহজ্জ, ১৪৪৭ হিজরী
সর্বশেষঃ

তজুমদ্দিনে ডিওর মেয়াদ শেষ ৩৪০টন চলে পড়ে আছে সরকারি গোডাউনে ॥

হেলাল উদ্দিন লিটন, তজুমদ্দিন (ভোলা): ভোলার তজুমদ্দিনে সমুদ্রগামী জেলে ও ভিজিডি`র সরকারি বরাদ্দের চাল উত্তোলনের জন্য ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) ইস্যু করা হলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিপুল পরিমাণ চাল খাদ্য গুদামে পড়ে থাকার ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে চাল উত্তোলন না হওয়ায় একদিকে সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রকৃত উপকারভোগীরা সময়মতো খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় প্রতিমাসে ভিজিডির সরকারি বরাদ্দকৃত কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলনের জন্য ডিও ইস্যু করেন। কিন্তু ডিওর নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও ১৫৫টন চাল পড়ে আছে গোডাউনে। গোডাউনের একটি সুত্রে জানায়, ভিজিডির ডিওর মেয়াদ উত্তীর্ণ চলের মধ্যে চাঁদপুর ইউনিয়নের ৫মাসের বরাদ্দের চাল, চাচড়ার ৩মাস, বড় মলংচাড় ইউনিয়নের ৪মাস, সোনাপুর ইউনিয়নের ১মাস ও শম্ভুপুর ইউনিয়নের ২ মাসের চাল গোডাউনের পড়ে রয়েছে। তার বাহিরে জুন মাসের ডিও হয়ে আছে। এছাড়াও সমুদ্রগামী জেলেদের বরাদ্দ রয়েছে, চাঁদপুরে ১০টন, সোনাপুরে ৭৫টন, চাঁচড়ায় ১৪টন, বড় মলংচড়ায় ৬.৫০টন ও শম্ভপুরে ৪টন সর্ব মোট ৩৪০টন ৫শ কেজি চাল গোডাউনে পড়ে রয়েছে। সমুদ্রগামী জেলেদের চাল মে মাসের ৩১ তারিখে বিতরণের শেষ সময়সীমা থাকলেও তাও এখনো গোডাউন থেকেই নেয়া হয়নি। এমতাবস্থায় সরকারি নতুন বরাদ্দের চাল ও ধান সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে গুদাম কর্তৃপক্ষ দিশেহারা। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ডিও ইস্যুর পর চাল উত্তোলনে অস্বাভাবিক বিলম্ব হলেও বিষয়টি নিয়ে কার্যকর তদারকি দেখা যায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। ফলে সরকারি খাদ্যশস্য দীর্ঘদিন গুদামে পড়ে রয়েছে। এতে নতুন খাদ্যশস্য সংরক্ষণেও চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মানবেতর জীবন যাপন করছে উপকারভোগী গরীব অসহায় মানুষ। সচেতন মহল মনে করছেন, ডিও ইস্যুর মূল উদ্দেশ্য হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাদ্যশস্য উত্তোলন ও উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ নিশ্চিত করা। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যদি চাল অনুত্তোলিত অবস্থায় পড়ে থাকে, তাহলে এর কারণ, দায় এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন।
উপকারভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পুরো উপজেলায় বরাদ্দের চাল বিতরণ না হওয়ায় অনেক উপকারভোগী অপেক্ষায় রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাগজে-কলমে বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে তারা চাল হাতে পাননি। ফলে সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির সুফল প্রত্যাশিতভাবে পৌঁছাচ্ছে না। এ বিষয়ে চাঁদপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ শাজাহান মিয়া বলেন, ভিজিডি চাল পরিবহনের জন্য সরকার টনপ্রতি ৪৮০ টাকা দেয়। এটাকায় চাল পরিবহন করা যায়না। টন প্রতি খরচ লাগে ৬শ থেকে ১২শ টাকা। টাকার সমন্বয় না হওয়ায় আমরা গোডাউন থেকে চাল আনতে পারিনি। আশা করি খুব শিগ্রই একটি সুরাহা হবে। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কানিজ মার্জিয়া বলেন, আমার জানমতে সকল ডিও হওয়া সকল চাল বিতরণ শেষ। তবুও যদি পরিবহনের খরচের জন্য কোন ইউনিয়ন চাল নিতে না পারে আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা কাছাকাছি চাল বিতরণের ব্যবস্থা করে দিবো যেখানে তারা চাল বিতরণ করতে পারবে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল মালেক বলেন, আমরা ডিও হওয়া চাল নিতে প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রতিনিয়তই চাপ দিচ্ছি। তার চাল না নিলে
আমারতো আর চাল ফেলে দিতে পারিনা। ডিওর মেয়াদ শেষ হওয়া চাল সরকারি গোডাউনে রাখার নীতিমালার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন এ বিষয়ে কোন সুষ্পষ্ট নীতিমালা নেই। উপজেলা নির্বাহি কর্তকর্তা মোঃ বনি আমিন বলেন, ডিও হওয়া সকল চাল যতদ্রুত সম্ভব গোডাউন থেকে বের করে বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন