আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে চান? - বিস্তারিত
ঢাকা আজঃ বৃহস্পতিবার, ১০ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ইং, ১১ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরী
সর্বশেষঃ

শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী নেই আমু-ওমরের, অনেক প্রার্থীকে চিনেই না ভোটাররা

মশিউর রহমান রাসেল, ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ সারাদেশে নির্বাচনী প্রচারণা জমে উঠলেও ঝালকাঠিতে এর কোন প্রভাব পড়ছে না। শক্ত প্রতিদ্বদ্বি না থাকায় আমির হোসেন আমু ও শাহজাহান ওমরের প্রচারণা কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা। আবার এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর যারা প্রতিদ্বদ্বি, তাদের কাউকেই চেনেন না অধিকাংশ ভোটারা। তাই ঝালকাঠির দুটি আসনেই নির্বাচনী উত্তাপ নেই বললেই চলে। যদিও মাঝেমধ্যে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে নৌকার প্রার্থী ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হয়। সুগন্ধা, বিষখালী ও ধানসিঁড়ি নদী বেষ্টিত জেলা ঝালকাঠি। ব্যবসা-বাণিজ্যে সমৃদ্ধ এই জেলাকে এক সময় দ্বিতীয় কোলকাতাও বলা হতো। এ জেলায় রয়েছে দুটি
সংসদীয় আসন। ঝালকাঠি-১ আসনটি রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলা নিয়ে এবং ঝালকাঠি-২ আসন সদর ও নলছিটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে প্রতিদ্বদ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত ব্যারিস্টার মুহাম্মদ শাহজাহান ওমর (নৌকা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. এজাজুল হক (লাঙ্গল), তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী জসীম উদ্দিন তালুকদার (সোনালী আঁশ), বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মজিবর রহমান (ডাব), জাকের পার্টির আবু বক্কর সিদ্দিক (গোলাপ ফুল), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী মামুন সিকদার (ছড়ি), সতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য এম মনিরুজ্জামান মনির (ঈগল) ও সতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আবুল কাশেম ফখরুল ইসলাম (ট্রাক)। এ আসনে মোট জনসংখ্যা- ২ লাখ ৭২ হাজার ৭৬৫ জন। বর্তমান ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ১২ হাজার ০৮ জন । পুরুষ ১ লাখ ৭ হাজার ৮৬০ জন। নারী ১ লাখ ৪ হাজার ১৪৫। থানা-দুটি (রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া), ইউনিয়ন ১২টি, ভোট কেন্দ্রে-৯০টি।
প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনটি আওয়ামী লীগের হাত ছাড়া হয়। প্রথম সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-রাজাপুর নিয়ে গঠিত আসনে আমির হোসেন আমু সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয়, ১৯৯১ সালে পঞ্চম, ১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ এবং ২০০১ সালে অস্টম সংসদে বিজয়ী হয়েছিলেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ব্যরিস্টার মুহাম্মদ শাহজাহান ওমর। ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যমতের সরকারে যোগ দিয়েছিলেন জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। আবার ২০০১ সালের অস্টম জাতীয়
সংসদ নির্বাচনে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরের (বীরউত্তম) কাছে হেরে যান। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ২০০১ সাল পর্যন্ত আটটি সংসদ নির্বাচনে সাতবারই এ আসনে আওয়ামী লীগকে হারতে হয় বিএনপি ও জাতীয় পার্টির কাছে। ২০০১ সালে এ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়ে প্রথমে ভ‚মি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে আইন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে এলাকায় রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন
করেছিলেন ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর। দীর্ঘ ৩০ বছর পর ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বজললুল হক হারুন নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে আসনটি আওয়ামী লীগের ঘরে আসে। টানা তিনবার তিনি এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত ২৯ নভেম্বর কারাগার থেকে বের হয়ে ৩০ ডিসেম্বর শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নৌকার মনোনয়ন পান শাহজাহান ওমর। পাল্টে যায় ঝালকাঠি-১ (রাজাপু-কাঠালিয়া) আসনের দৃশ্যপট। বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী যোগদেন শাহজাহান ওমরের সঙ্গে। নামেন নৌকার নির্বাচনী প্রচারণায়। এ আসনে শাহজাহান ওমরের শক্ত প্রতিদ্বদ্বি ছিলেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নয় বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য এম মনিরুজ্জামান মনির। তিনিও প্রধানমন্ত্রী ও নৌকার প্রতিআস্থা রেখে গত ২৬ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন ডেকে
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। এরপরই নির্বাচনী মাঠে শাহজাহন ওমর একাই দাপিয়েবেড়াচ্ছেন। তাঁর আর শক্ত কোন প্রতিদ্বদ্বিতা রইলো না। আর যারা তাঁর প্রতিদ্বন্দি হয়ে নির্বাচনে বিভিন্ন দলের এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তাদের এলাকায় কেউ চিনেন না। রাজাপুর সদর ইউনিয়নের বাইপাস মোড় এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনী মাঠে নৌকার প্রার্থী শাহজাহান ওমর ছাড়া অন্য যারা প্রার্থী হয়েছেন,
কাউকেই আমি চিনি না। এলাকায় তাদের কখনো দেখিনি। কোন অনুষ্ঠানেও তাঁরা আসেননি। এমনকি প্রার্থী হয়েও কোন পোস্টার নেই তাদের, কোথায় মাইকিংও শোনা যাচ্ছে না। এমন প্রার্থী না থাকলেই ভালো হতো। এদিকে ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনে প্রতিদ্বদ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু (নৌকা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী নাসির উদ্দিন এমরান (লাঙ্গল) ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. ফোরকান হোসেন (আম)। এ আসনে মোট জনসংখ্যা- ৪ লাখ ৯ হাজার ৯০৪ জন। বর্তমান ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৫৬ জন। পুরুষ ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯০০। নারী ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৫৪। থানা-দুটি (সদর ও নলছিটি), ইউনিয়ন ২০টি, ভোট কেন্দ্রে-১৪৭টি। ১৯৯৬ সালের পূর্বে নলছিটিতে প্রতি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কমিটি করার মত লোকপাওয়া যেত না। সেখানে এখন প্রতি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীর অভাব নেই। আর ঝালকাঠি সদরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা সব সমময়ই ভাল ছিল। এমনকি এরশাদের জাতীয় পার্টির শাসন আমলেও ঝালকাঠি পৌর এলাকায় নৌকা প্রতীকে বেশী ভোট পেত। মূলত ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর আমির হোসেন আমু টেকনোক্রেট কোঠায় খাদ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এ সময় তিনি নলছিটি এবং ঝালকাঠিতে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেন। ২০০০ সালে এ আসনে জাতীয় পার্টির সাংসদ জুলফিকার আলী ভূট্রোর মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে আমির হোসেন আমু এমপি নির্বাচিত হয়ে উন্নয়নেরমাত্রা আরও বাড়িয়ে দেন। ঝালকাঠি সদর আসনে আমির হোসেন আমুই প্রথম পূর্ণমন্ত্রী। তিনি ছাড়া এ আসনে এখন পর্যন্ত অন্য কোন রাজনীতিবিদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পাননি। তিনি গত তিনটি সংসদ নির্বাচনে টানা ৩ বারের সংসদ সদস্য। তার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী কাউকেই খুব একটা নির্বাচনী মাঠে দেখা যায়নি, সাধারন মানুষ তাদেরকে ওরকম চিনেও না বলে একাধিক ভোটার সূত্রে জানা গেছে।

ফেসবুকে লাইক দিন