নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের দাম বৃদ্ধি, প্রতি লিটার সয়াবিন ১৫০ টাকা

নিউজ ডেস্ক।। মাত্র ৫ দিনের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে পিয়াজের দাম বেড়েছে ২০-২৫ টাকা। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম কোনো কারণ ছাড়াই কয়েক দিনে দফায় দফায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবেও গত কয়েক দিনে চিনি, আটা, মুরগি, মাছ, ভোজ্য তেল, মসলা ও সবজিসহ অন্তত একডজন পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। অন্যদিকে বাজারে চাল-ডালসহ বেশকিছু পণ্যের দাম আগে থেকেই চড়া। নতুন করে প্রায় সব পণ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে দিশাহারা অবস্থা নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের।
গতকাল রাজধানীর মিরপুর, তেজগাঁও, ফার্মগেট, কাওরান বাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকার বাজার ঘুরে দেখা যায়, এসব বাজারে মানভেদে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত ৪-৫ দিন আগেই ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।মিরপুর ১৩ নম্বর এলাকায় প্রতিকেজি পিয়াজ ৭০-৭৫ টাকা দাম হাঁকতে দেখা গেছে।আমদানিকারক ও আড়তদারদের সিন্ডিকেটের কারণেই দাম বাড়ছে বলে অভিযোগ করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে আড়তদাররা জানিয়েছেন, ভারত থেকে পিয়াজের আমদানি কমায় দাম বাড়ছে। পিয়াজ কিনতে এসে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। পিয়াজের সঙ্গে অন্যান্য নিত্যপণ্যের চড়া দামের কারণে নাভিশ্বাস উঠেছে তাদের।কাওরান বাজারের এক পিয়াজ ব্যবসায়ী জানান, ভারতে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে পিয়াজের ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়াও পূজার কারণে বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে। ফলে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষক ক্ষেত থেকে পিয়াজ ওঠানো কমিয়ে দিয়েছেন। তাই দাম বেড়ে যাচ্ছে। ওদিকে সরকার চিনির দাম ৭৪ থেকে ৭৫ টাকা কেজি নির্ধারণ করে দিলেও তা কোথাও মানা হচ্ছে না। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অন্তত ৫-১০ টাকা বেশি দামে চিনি বিক্রি হচ্ছে। খুচরায় প্রতি কেজি চিনি ৮০ থেকে ৮৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া চালের দাম বেড়ে স্থিতিশীল থাকলেও, আটা-ময়দা কিনতেও গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। আটা ও ময়দা যথাক্রমে কেজিতে ৪২ ও ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা আগের চেয়ে ৯ থেকে ১৩ শতাংশ বেশি। ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে আটা-ময়দার দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এখন প্রতি টন ময়দার দাম ৪৫০ ডলার, যা কয়েক সপ্তাহ আগেও ২৯ শতাংশ কম ছিল বলে জানান ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে টিসিবি’র ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেল ও পাম তেলের দাম প্রতি লিটারে ৩ থেকে ১০ শতাংশের মতো বেড়েছে। আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকা এবং খোলা পাম তেল প্রায় ১২৫ থেকে ১২৮ টাকা দরে বিক্রি হয়। ৫ কেজির বোতলজাত তেল গতকাল বিক্রি হয়েছে ৬৮০ থেকে ৭৩০ টাকা। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৬৭০ থেকে ৭২০ টাকা। টিসিবি’র হিসাবে গতকাল দেশি পিয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা কেজিতে। যা গত সপ্তাহে ছিল ৪২ থেকে ৫০ টাকা। আর আমদানি করা পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। এ ছাড়া বেড়েছে আমদানি করা রসুনের দামও। গতকাল আমদানি করা রসুন বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১৩০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা।
এ ছাড়াও বাজারে মুরগির দামও বেড়ে গেছে। মিরপুর এলাকায় ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৬০ টাকা ও সোনালী জাতের মুরগি ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাত্র কয়েকদিন আগেও এর দাম ছিল যথাক্রমে ১৪০ টাকা ও ২৩০ টাকা। মুরগির খুচরা বিক্রেতারা জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় সম্প্রতি মুরগির দাম অনেক বেড়েছে। ওদিকে ডিমের দামও প্রতি ডজনে প্রায় ১০ টাকা করে বেড়েছে। বেড়েছে মাছের দামও। বাজারে রুই মাছের দাম এখন ২৬০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজি। এ ছাড়া তেলাপিয়া ও পাঙ্গাশ যথাক্রমে ১৬০ থেকে ১৮০ এবং ১২০ থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে কাঁচামরিচের দাম ছিল প্রতি কেজিতে ৮০-১০০ টাকা। সেটি বেড়ে এখন ২০০-২২০ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া শীতের আগে শিম ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে আর গাজর ও টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা।
মিরপুর এলাকার বাসিন্দা হানিফ জানান, নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় তার সংসারের খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। কিন্তু আয় রোজগার আগের মতোই বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, কয়েক মাস আগেও ২০০-৩০০ টাকার বাজার করলেই হয়ে যেত। আর এখন ৫০০ টাকার বাজার করলেও অনেক কিছু কেনার বাকি থাকে।

ফেসবুকে লাইক দিন