এস আই নয়নের ঘুষ বাণিজ্য তদন্তে মনপুরার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানকে তলব।।

ষ্টাফ রিপোট###

এসআই নয়নের ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ তদন্তে মনপুরা 2 নং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কে তলব করেছে তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্বাস মাহমুদ।। সদর দপ্তর বার্তা নং ৬৫৮৬ তারিখ ২.৯.২০২১ স্বারকের মাধ্যমে আজ পুলিশ সুপার কার্যালয় উপস্থিত থাকার জন্য নোটিশ জানিয়ে চিঠি করেন মনপুরা থানা পুলিশ প্রশাসন।।

মূলত অভিযুক্ত বিতর্কিত যুবদল নেতা শাহজাহান মাস্টার বিরুদ্ধে চলমান মনপুরা কোর্টের সিআর ৫/২১ মামলাটির পুনঃতদন্তের রিপোর্টি সঠিকভাবে প্রদান করেছ 2 নং হাজিরহাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক এমনটাই বক্তব্য অভিযোগকারী লিমা বেগমের
অন্যদিকে ভোলা জেলার মনপুরা থানার এসআই ইব্রাহিম নয়নের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের নিকট লিখিত লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী লিমা বেগম তুলে ধরেন মনপুরার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট থেকে সি আর- ৫/২১ মামলার তদন্তভার মনপুরা থানায় প্রেরন করলে, তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত হন এসআই ইব্রাহিম নয়ন। অতঃপর তদন্ত কর্মকর্তা এস আই ইব্রাহিম নয়ন ভুক্তভোগীর কাছে থেকে নগদ টাকা দাবি করেন,টাকা না দিতে পারায় আসামী পক্ষ থেকে 30 হাজার টাকা গ্রহণ করে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করে এস এই ইব্রাহিম হোসেন নয়ন।। ফলে বিজ্ঞ আদালতের তদন্তের বিরুদ্ধে না রাজি প্রদান করলে, বিজ্ঞ আদালত এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক কে পূর্নতদন্তের ভার প্রদান করেন এবং ইউপি চেয়ারম্যান সঠিক তদন্তের রিপোর্ট বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন।।

মনপুরা সিনিয়র জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেটের বিজ্ঞ আদালত ইউপি চেয়ারম্যানের তদন্ত আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।। বিষয়টি অবগত করে মিথ্যা প্রতিবেদনের বিচার জানিয়ে ভোলা জেলার বিজ্ঞ পুলিশ সুপারের নিকট মনপুরা থানার এস আই নয়নের ইব্রাহিম বিরুদ্ধে অভিযোগ আনায়ন করেন ভুক্তভোগী।।

অভিযোগকারী লিমা বেগমের নিকট অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকে জানান,আসামী স্থানীয় যুবদল বিতর্কিত নেতা।। শাহাজান মাস্টারের পক্ষ হয়ে এসআই নয়ন মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়েছেন।। আমি পুলিশ সুপারের নিকট আমাকে হয়রানি মিথ্যা প্রতিবেদন এর বিচার চাই!

আসামি যুবদল নেতা শাহজাহান মাস্টার এস আই নয়নের ক্ষমতাবলে আমাকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি ধমকি দিয়ে আসছেন এবং বলে বেড়াচ্ছে আমি ৩০ হাজার টাকা দিয়ে মামলা খেয়ে ফেলেছি।। আসামী শাজাহান মাস্টারের মুখের ব্যবহারও আচার-আচরণ যথেষ্ট খারাপ, কথায় কথায় এলাকার মানুষকে গালমন্দ করেন এবং মানুষের গায়ের দিকে মারতে ছুটে যান ।

অভিযোগকারী লিমা আরো জানান,অসামী যুবদল নেতা শাহজাহান গত 2001 থেকে 2006 সালের বিএনপি’র শাসন আমলে সন্ত্রাসের রাজত্ব করেছেন বলে এলাকায় অভিযোগও রয়েছে। এমনকি প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে বহু মানুষকে কুপিয়ে চাঁদা আদায় করেছেন তখনকার এই সন্ত্রাসী শাহাজান ।। বর্তমানে বিএনপি আসলে মানুষকে হতাহত করবেন বলে তালিকা করেছেন এবং হুমকি দিচ্ছেন এই যুব দলের নেতা।। সাংবাদিকদের বলেন আপনারা এলাকায় আসলে তার প্রমাণ পাবেন।।

এদিকে এস আই ইব্রাহিম নয়নের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তে আসামি থেকে অর্থের বিনিময়ে মিথ্যা প্রতিবেদনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ পুলিশ সুপার কার্যালয় এস আই নয়নের পক্ষে মিথ্যা সাফাই সাক্ষী প্রদান করেন আসামি পক্ষের সাক্ষীগণ।। তথ্যসূত্রে জানা যায় অত্র কার্যালয় থেকে যে কয়জন সাক্ষীকে ডাকা হয় তারমধ্যে দুই জন আসামির আপন ভাই, একজন ৩নং স্বাক্ষ্য মোঃ নুর আলম অন্যজন আতিকুর রহমান জুয়েল এবং 5 নং ও 6 নং সাক্ষী আসামী বিতর্কিত যুবদল নেতা শাহজাহান মাস্টার-এর নিকটতম আত্মীয় স্বজন ।। আসামির তার মিথ্যা প্রতিবেদন বহাল রাখার জন্য এবং এস আই ইব্রাহিম হোসেন নয়ন কে আড়াল করতেই এই নাটক সাজিয়েছেন।। এমনটাই অভিযোগ করেন আজ তদন্ত শেষে পুলিশ সুপার কার্যালয় এর সামনে ভুক্তভোগী লিমা বেগম।।

অভিযুক্ত মনপুরা থানার এসআই ইব্রাহিম হোসেন নয়ন কে বারবার মুঠোফোনে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।।

বিষয়টি নিয়ে আসামি স্থানীয় যুবদল নেতা শাহজাহানকে মুঠোফোনে চেষ্টা করলে, তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে লাইন কেটে দেন

অভিযোগের বিষয়ে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ সাঈদ আহমেদের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি পুলিশ সুপারের নিকট তদন্তাধীন চলমান রয়েছে।।

বিতর্কিত যুবদল নেতা শাহাজান মাস্টারের নানা কেলেঙ্কারি বিষয়টি নিয়ে যুবদলের জেলা সভাপতি নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, সত্যতা পেলে অচিরেই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। সাধারন মানুষকে যদি বিএনপি আসলে নানা ধরনের হুমকি ধামকি দিয়ে থাকে তাহলে তার প্রমাণ পেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে, সন্ত্রাসী কোন দলের নয়।।

আসামির যুবদল নেতা শাহজাহানের সন্ত্রাসী কার্যক্রমসহ নানা কেলেঙ্কারি নিয়ে মনপুরা যুবদল সভাপতি জোবায়ের রাজিব এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন সন্ত্রাসী কোন দলের নয়,প্রমাণ পেলে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।।

অভিযুক্ত শিক্ষক শাহাজান মাস্টারের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে জেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান,মনপুরার ফৈজুদ্দিন মাঃ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহজাহান যুবদলের নেতাকর্মীদের বা কোন পদে আছেন কিনা তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে ।।

বিষয়টি নিয়ে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্বাস মাহমুদ এর নিকট জানতে চাইলে,তিনি জানান বিষয়টি নিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।। তদন্ত শেষ হলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।।

উল্ল্যখ আসামি যুবদল নেতা শাহজাহান মাষ্টার মনপুরা (ফকির হাট)চর ফৈজুদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন এবং মনপুরা বিতর্কিত যুবদল নেতা (উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক)

ফেসবুকে লাইক দিন