আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে চান? - বিস্তারিত
  • রবিবার, ২৮শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১১ই জানুয়ারি, ২০২৬ ইং, ২১শে রজব, ১৪৪৭ হিজরী
সর্বশেষঃ

বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার্থীর পাঠদান, প্রয়োজন নির্ধারিত পরীক্ষা কেন্দ্র; মো: আশরাফুল আলম

ভোলার খবর ডেস্ক: দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পিএসসি (প্রাথমিক সমাপনী), এসএসসি, এইচএসসি এবং স্নাতক ও স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ের বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা ও চাকুরির নিয়োগ পরীক্ষাগুলো একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। তবে এই পরীক্ষাগুলোর কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় সাধারণ স্কুল ও কলেজগুলোকে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিভিন্ন পরীক্ষার কারণে বছরের প্রায় ৪ থেকে ৫ মাস এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাভাবিক শ্রেণি কার্যক্রম পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ থাকে। এতে ওই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। বর্তমানে একটি পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই অন্য একটি পরীক্ষার তোড়জোড় শুরু হয়। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা শহরের নামী-দামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেই কেন্দ্র হিসেবে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। পরীক্ষার দিনগুলোতে তো ক্লাস বন্ধ থাকেই, এমনকি পরীক্ষার আগের দিন প্রস্তুতি এবং পরের দিন উত্তরপত্র গুছানোর কাজেও অনেক সময় শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করা যায় না। ফলে নির্ধারিত সময়ে সিলেবাস শেষ করতে না পেরে পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। এই সমস্যা সমাধানে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অভিভাবকরা প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় নির্ধারিত পরীক্ষা কেন্দ্র বা মাল্টিপারপাস এক্সামিনেশন হল নির্মাণের প্রস্তাব দিচ্ছেন। যদি প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় স্থায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র থাকে, তবে:
১। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সচল থাকবে
২। পরীক্ষা চলাকালীন স্কুল-কলেজের নিয়মিত ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে না।
৩। স্থায়ী কেন্দ্র হলে সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা, আধুনিক সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট এবং প্রশ্নপত্র সংরক্ষণের জন্য স্থায়ী ও নিরাপদ ব্যবস্থা থাকবে।
৪। সাধারণ শিক্ষার্থীদের হৈচৈ বা চলাচলের চাপ থাকবে না, ফলে পরীক্ষার্থীরাও একটি শান্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারবে।
৫। প্রতিবার নতুন করে বেঞ্চ সাজানো বা হল প্রস্তুত করার বাড়তি খরচ ও জনবল সাশ্রয় হবে।
অভিভাবক মোঃ কামাল হোসেন জানান, আমার সন্তান যে স্কুলে পড়ে, সেখানে বছরে অর্ধেক সময় কোনো না কোনো পরীক্ষা চলে। স্কুল কর্তৃপক্ষ তখন অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার কথা বললেও তা সরাসরি ক্লাসের বিকল্প হয় না। একটি স্থায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র থাকলে আমাদের সন্তানদের পড়াশোনায় এই বিঘ্ন ঘটত না।
শিক্ষাবিদদের মতে, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হলে অবকাঠামোগত এই পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় যদি প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি করে বড় পরিসরের পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করে, তবে দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার মানে আমূল পরিবর্তন আসবে। দেশের বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ চিন্তা করে এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় স্থায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণ করা এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার প্রত্যাশা করছি।
মো: আশরাফুল আলম (সহকারী প্রধান শিক্ষক), টবগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভোলা সদর, ভোলা।

ফেসবুকে লাইক দিন