আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে চান? - বিস্তারিত
ঢাকা আজঃ রবিবার, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২১শে এপ্রিল, ২০২৪ ইং, ১১ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরী
সর্বশেষঃ

বেইলি রোডে অ’গ্নি’কা’ণ্ডে ভোলার ৪ জন নিহত।

হাবিবুর রহমান মিরাজ, (চরফ্যাশন) ভোলাঃ রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে চার জনের বাড়ি ভোলা।
বেইলি রোডে নিহতদের মধ্যে একজনের নাম হলেন জুনায়েদ। তিনি ভোলা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিএভিএস সড়কের বাসিন্দা এবং ঢাকার একটি ‘ল’ কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। শোকে পাথর হয়ে গেছে জুনায়েদের পরিবারও। স্বজন হারিয়ে দিশেহারা তারা। জুনায়েদের বাড়ি ভোলা হলেও তারা পরিবারসহ ঢাকায় থাকতেন। তবে তার মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে বিষাদে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার বাতাস।
নিহতদের আরেকজন নয়ন। ভোলা সদরের উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের চর কুমুরিয়া গ্রামে দিনমজুর সিরাজ উদ্দিনের ছেলে তিনি। দুর্ঘটনা কবলিত কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টে বয়ের কাজ করতেন তিনি।
নিহত নয়নের পরিবারের সদস্যরা জানান, পাঁচ দিন আগে বাড়ি থেকে কাজের সন্ধানে ঢাকা গিয়েছিলেন। তিন দিন আগে চাকরি পান তিনি। ভাগ্যের নির্মমতায় এই কর্মস্থলেই তাকে প্রাণ হারাতে হয়েছে।
নয়নের মা নাজমা বেগম জানান, ছেলে ফোনে জানিয়েছি ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসবে। কিন্তু তার তো আর ফেরা হলো না।
তার চাচি জুয়েনা আক্তার বলেন, পরিবারটি খুবই দরিদ্র। কাজের জন্য ঢাকা গিয়ে প্রাণ হারাতে হলো। নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে অভাবের কারণে আর পড়া হয়নি নয়নের। বাধ্য হয়েই ঢাকায় গিয়ে কাজ শুরু করেছিল। তার মর্মান্তিক এমন মৃত্যুতে শোকে স্তব্দ পুরো পরিবার।
বেইলি রোডের আগুনে ভোলার আরও দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তারা হলেন দোলা ও মাহী। তাদের বাড়ি দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের গুপ্তগঞ্জ বাজারে। তবে তারা ২০ বছর আগে ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা। ঢাকার গাজীপুরে তারা বসবাস করে আসছিলেন। দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
ভোলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তামিম আল ইয়ামিন বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত পরিবারের পাশে জেলা প্রশাসন রয়েছে। যে কোনও প্রয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করবে।

ফেসবুকে লাইক দিন