আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে চান? - বিস্তারিত
ঢাকা আজঃ রবিবার, ২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জুন, ২০২৪ ইং, ৯ই জিলহজ্জ, ১৪৪৫ হিজরী
সর্বশেষঃ

অস্তিত্ব সংকটের আশঙ্কায় রাজাপুর- কাঠালিয়া বিএনপি

মশিউর রহমান রাসেল,ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠি-০১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জনসাধারনকে ধানের শীষ প্রতিকে পরিচিত করিয়েছিলেন মেজর (অব) শাহজাহান ওমর বীরউত্তম। জোট সরকারের আমলে তিনি একাধিক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। বিএনপির দূর্গ হিসেবে গড়ে তোলেন এ নির্বাচনী এলাকা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিকে মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন তিনি। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেয়ায় বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় প্রায় দুই ডজন নেতাকে বহিস্কার করে দলের জেলা কমিটি। যুবদলের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদককেও বহিস্কার করা হয় দল থেকে। উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলে সিনিয়র যুগ্মআহবায়ককে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেয়া হয়। ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পাবার ৩মাসের মধ্যেই সেও আহবায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ২জানুয়ারী পদত্যাগ করলেও এখন পর্যন্ত আহবায়কের দায়িত্ব দেবার মতো কোন নেতা খুজে পায়নি জেলা ছাত্রদল। রাজাপুর কাঠালিয়া বিএনপির নেই কোন দলীয় কার্যালয়। সভাপতি/সম্পাদকের বাসায় অথবা বারান্দায় বিএনপির মৌখিক অফিসে চলছে দলীয় কার্যক্রম। তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, মুক্তিযুদ্ধকালীন ৯নং সেক্টরের সাবসেক্টর কমান্ডার, মেজর (অব.) ব্যরিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তম বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মেজর জিয়াউর রহমানের সাথে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। সেই থেকেই সক্রিয়ভাবে তিনি বিএনপির রাজনীতি করতেন। রাজাপুর উপজেলার সাংগর গ্রামে তার নিজ বাড়ি থাকলেও তিনি রাজনীতি করতেন রাজাপুর ও কাঠালিয়া উপজেলা বাসিকে সাথে নিয়েই। এ দু’উপজেলা বাসীর কাছে তিনি প্রিয় নেতা হিসেবেই পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তিনি বিএনপির রাজনীতি করলেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মহাসচিব’র বিভিন্ন ত্রুটিতে কঠোর সমালোচনাও করতেন। এ কারণে অনেক সময় দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ তাকে ভিন্ন চোখেও দেখতেন। বিভিন্ন সময় তিনি বিভিন্ন বক্তৃতা দিয়ে গণমাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছেন। পিটার হাস কে অবতর ও ভগবান সম্বোধন করে নতুন আলোচনার জন্মদেন তিনি। গত ২৮ অক্টোর বিএনপির কর্মসূচীতে জ্বালাময়ী বক্তৃতাও প্রদান করেন তিনি। ওই কর্মসূচী থেকে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা, ভাঙ্চুর, অগ্নিসংযোগের মামলায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২৯নভেম্বর সন্ধ্যায় তিনি কারামুক্তি হয়ে ৩০নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে স্বাক্ষাত করেন ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে (৩০নভেম্বর) নতুন চমকে আর্বিভুত হয়ে নৌকা প্রতিকে মনোনয়ন নিয়ে অনলাইনে আবেদন করেন। ঝালকাঠি জেলাসহ দেশব্যাপী চাঞ্চল্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন শাহজাহান ওমর। বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েন রাজাপুর-কাঠালিয়া উপজেলা বিএনপি। ৩০নভেম্বর বিকেলে মুহুর্তের মধ্যেই রাজাপুর উপজেলার বাইপাস মোড়ে শাহজাহান ওমরের ব্যক্তিগত জায়গায় নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত বিএনপির উপজেলা কার্যালয়ের সাইনবোর্ড ও অন্যান্য ফেস্টুন সরিয়ে রাজাপুর-কাঠালিয়ার নৌকা প্রতিকের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় পরিণত করা হয়। রাতে রাজাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক নাসিম আকন বাগড়িতে তার নিজ বাসায় সাংবাদিকদের ডেকে মনের দুঃখ প্রকাশ করে আল্লাহর কাছে বিচার দাবী করেন। সেই সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের দৃঢ় মনোবল নিয়ে দলের সাথে থাকার আহবান জানান এবং উপজেলা বিএনপির কার্যালয় হিসেবে নিজ বাসার একটি রুম ব্যবহারের নির্দেশনা দেন। তৃণমূল নেতাকর্মীরা প্রথমে দলের আনুগত্যে থাকলেও ক্রমান্বয়ে শাহজাহান ওমরের দিকেই ধাবিত হতে থাকে। কেউ প্রকাশ্যে আবার কেউ পরোক্ষভাবে শাহজাহান ওমরের সমর্থনে নৌকা প্রতিকে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। সুনির্দিষ্ট পদ-পদবী ধারীদের প্রকাশ্যে প্রচারণার ছবি
পেলেই জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের সাংগঠনিকভাবে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রেসরিলিজ দেয় জেলা বিএনপির আহবায়ক-সদস্য সচিব। এখন পর্যন্ত মোট প্রায় দুই ডজন নেতাকে বহিস্কার করা হয়েছে। এছাড়াও বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত থেকে ব্যারিস্টার শাহাজাহান ওমরের সান্নিধ্যে পরোক্ষভাবে রয়েছেন বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। রাজাপুর ও কাঠালিয়ার বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিকদলসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের প্রান্তিক শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ক্রমান্বয়ে ব্যক্তি শাহজাহান ওমরের দিকেই ধাবিত হচ্ছেন। যাদেরকে বহিস্কার করা হয়েছে তারা সবাই এখন শাহজাহান ওমরের সাথে আওয়ামীলীগের রাজনীতি করছেন। উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ কয়েকজন বাদে গাঁ বাচিয়ে বিএনপি করছেন তারা। রাজাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক নাসিম আকন বলেন, রাজাপুর-কাঠালিয়া বিএনপির কারিগর ব্যরিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম। কারাগারে থাকাকালীন আমরা টের পেয়েছিলাম তার দল পরিবর্তনের বিষয়। তাকে অনুরোধ করেছিলাম তিনি যেন দল পরিবর্তন না করেন। তিনি আমাদের কথা শুনেননি। যেই সময়ে তিনি দল পরিবর্তন করেছেন ওই সময়ে রাজাপুর-কাঠালিয়া উপজেলার হাজার হাজার বিএনপির নেতাকর্মী নিজ ঘরে ঘুমাতে পারেনি। স্বাভাবিক জীবন যাপনও ব্যাহত হয়েছে নেতাকর্মীদের। সবাইকে বিপদের মধ্যে রেখে তিনি নিজ স্বার্থে দল পরিবর্তন করেছেন, তার বিচার উপর আল্লাহর কাছে ছেড়ে দিলাম। অস্তিত্বে বিষয়ে তিনি বলেন, যারা বিএনপি তথা জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী তারা কখনোই আদর্শ বিচ্যুত হবেন না। তাই রাজাপুরের বিএনপিও অস্তিত্বের সঙ্কটে পড়ার কোন আশঙ্কা দেখছি না। ব্যরিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম জানান, আমার সাথে রাজাপুর-কাঠালিয়া বিএনপির বেশিরভাগ নেতাকর্মীই এসেছে। কিছু নাবালেগ বাচ্চা আছে, তারা এখন পর্যন্ত আসেনি। সময় হলে তারা না এসে উপায় পাবে না। প্রধানমন্ত্রী যদি চান, আর যদি আমাকে দায়িত্ব দেন আওয়ামীলীগকে বরিশাল বিভাগে সুসংগঠিত করার জন্য। তাহলে আমি বরিশাল বিভাগে একমাত্র আওয়ামীলীগকেই রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারবো। অন্যসব রাজনৈতিকদল মাঠে টিকতেই পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফেসবুকে লাইক দিন