আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে চান? - বিস্তারিত
ঢাকা আজঃ রবিবার, ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ৩রা মার্চ, ২০২৪ ইং, ২১শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরী
সর্বশেষঃ

কাঠের পিঁড়িতে বসিয়ে ৫০ বছর চুল দাড়ি কেটে সংসার চালাচ্ছেন লালমোহনের আবুল কাশেম

মোঃ ছাইফুল ইসলাম জিহাদ), লালমোহন ভোলা: ভোলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ আবুল কাশেম। তিনি দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে কালমা ইউনিয়নের অধিকাংশ বাড়ি বাড়ি যেয়ে কাঠের পিঁড়িতে বসিয়ে স্থানীয়দের চুল- দাড়ি কাটেন এবং করান শেভও করান। যার আয় দিয়ে চলে আবুল কাশেম এর সংসার। তার কাছে আসেন ছোট বড়ো বয়সের মানুষরা।
যারা চুল- দাড়ি কাটেন তাদের কে অনেকে’ই নাপিত বা নরসুন্দর বলে থাকে। বেশির ভাগ’ই ছোট বড় সকল মানুষের কাছে পরিচিত নাপিত নামটি। জানা যায় যে, পুর্বপুরুষদের আমলে গ্রামাঞ্চলের ধনী ও মধ্যবৃত্তদের বাড়ীতে গিয়ে নাপিতেরা বাৎসরিক ধানের চুক্তিতে চুল ও দাড়ি কাটার কাজ করতো। বর্তমানের আধুনিকতার ছোঁয়ায় ও কালের বিবর্তনে নাপিতেরা এখন আর মানুষের বাড়ীতে গিয়ে চুল দাড়ি কাটেন না। তাছাড়া এক সময় গ্রাম-গঞ্জের হাট-বাজার গুলোতে খোলামেলা পরিবেশে পিঁড়িতে বসে চুল-দাড়ি কাটানো ও শেভ করা হতো। তাদের থাকতো একটি ছোট বাক্স যার মধ্যে থাকত কাচি, চিরুনি, রেজার, আয়নাসহ চুল দাড়ি কাটার যন্ত্রপাতি। এছাড়া সঙ্গে থাকত এক জোড়া পিড়ি।
বর্তমান সময়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেই দৃশ্য তেমন আর চোখে পড়ে না। যা এখন বিলীনের পথে। তবে পূর্বপুরুষ বাপ দাদাদের মত পিঁড়িতে বসিয়ে চুল দাড়ি কাটা গ্রামীণ সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন মোঃ আবুল কাশেম।
এ কাজের জন্য আবুল কাশেম মিয়ার কাছে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বলতে রয়েছে, চিরুনি, কাপড়, ছোট আয়না, ক্ষুর ও কাঁচি সহ বর্তমান প্রযুক্তির চুলা কাটার মেশিন।
আবুল কাশেম মিয়া জানান, আগে মানুষজন পিঁড়িতে বসে খোলা আকাশের নিচে এভাবেই চুল-দাড়ি কাটাতেন ও শেভ করতেন। তার বাবা এবং বাবার বাবা (দাদা) ও এই ভাবে কাজ করে গেছেন। সেই ঐতিহ্য ধরে রেখে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে উপজেলার কালমা ইউনিয়নের বাড়ি বাড়ি যেয়ে পিঁড়িতে বসিয়ে মানুষের চুল কাটান ও শেভ করান।
তিনি আরো বলেন, আমাদের কাছে বিভিন্ন বয়সের লোকরাই আসেন। তাদের চুল-দাড়ি কাটলে ও শেভ করালে কেউ ৩০ টাকা, আবার কেউ ৪০ টাকা করে দেন। এতে করে কাজে জন্য বের হলো প্রতি দুইশো থেকে তিনশো টাকার মতো আয় হয়। এ টাকা দিয়েই চলে তার সংসার।
নরসুন্দর মোঃ আবুল কাশেম এর কাছে চুল কাটাতে ও শেভ করতে আসা কয়েকজন জানান, আবুল কাশেম এর কাছে কম দামে চুল-দাড়ি কাটানো যায়। শেভ করতেও তারা কম টাকা নেয়। যদি মাঝে মধ্যে টাকা না থাকে তা হলে তাকে চাল ও দেই আর আমাদের এলাকার শিশুদের চুল কাটানোর জন্য বাজারে নেওয়া আনার ঐ ঝামেলা থেকে ও মুক্তি হয় আবুল কাশেম মিয়ার জন্য। এ জন্যই আমরা বয়স্ক ও শিশুরাই তাদের কাছে আসি। বাজারের সেলুনগুলোতে গেলে এক থেকে দেড়শত টাকা করে দিতে হয় চুল-দাড়ি কাটতে ও শেভ করতে। এক সময় খোলা পরিবেশে বসেই চুল-দাড়ি কাটাতে হতো। এখন আর এসব সচরাচর দেখা যায় না। এখন সেই ঐতিহ্যটি এখনও আবুল কাশেম মিয়া ধরে রেখেছে।

ফেসবুকে লাইক দিন