আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে চান? - বিস্তারিত
ঢাকা আজঃ মঙ্গলবার, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২১শে মে, ২০২৪ ইং, ১২ই জিলক্বদ, ১৪৪৫ হিজরী
সর্বশেষঃ

চাকরি না খুজে উদ্যোক্তা,ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন নলছিটির তরুণ রেজাউল

মশিউর রহমান রাসেল, ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া এলাকার তরুণ কৃষক মোঃ রেজাউল ভার্মি কম্পোস্ট সার(কেচো সার) উৎপাদন করে এখন সফল ও স্বাবলম্বী কৃষক।
নলছিটি উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনে মনোনিবেশ করেন তরুন উদ্যোক্তা রেজাউল। তিনি বলেন,নলছিটি কৃষি অফিসের সহযোগীতায় ২০২০ সালে এসএসিপি প্রকল্পের একটি প্রদর্শনী দিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন শুরু করেছি,সেই সময় ৬০০ টাকা প্রথম বিক্রি, এর পর থেকে আমার পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি।এখন প্রতি মণ সার ৫০০-৬০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। প্রতি কেজি কেঁচোর দাম ৮০০-১০০০ টাকা দরে আমি বিক্রি করছি,আমার কৃষি কাজে এ সার ব্যবহার করে অধিক পরিমাণে ফসল পাচ্ছি যেকারণে আমি স্বাবলম্বী ও সফল কৃষক।
এ সার উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, গ্রাম থেকে গবোর সংগ্রহ করে সংগৃহীত গোবর ২০-২৫দিন একস্থানে গচ্ছিত রেখে পরে হাউজ ও চাড়িতে দেওয়া হয়,এরপর কেঁচো ছেড়ে দিতে হয় গোবর দিয়ে। এ গোবর কেঁচো বেশি খায় তাই সারও বেশি হয়।
এ বিষয় উপজেলা কৃষি অফিসার সানজিদ আরা শাওন বলেন,পর্যায়ক্রমে চাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি করে আসছেন কৃষক রেজাউল, এখন তার চাড়ির সংখ্যা প্রায় ২০ টি ।সেখানে প্রায় পঞ্চাশটি চাড়ির পরিমান গোবর রাখা যায়। পাশাপাশি তিনি কেচো সরবরাহ করেন।এছাড়াও তিনি বলেন, নলছিটি উপজেলা দপদপিয়া ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিস অত্র উপজেলায় আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারনের লক্ষে প্রকল্পের মাধ্যমে মোঃ রেজাউল কে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। তার দেখাদেখি এখন এই গ্রামের অনেকেই এই সার উৎপাদন ও ব্যবহার করছেন বিধায় আমরা গ্রামটিকে ভার্মি গ্রাম হিসেবে নামকরণ করেছি। আগামীতেও এই কার্যক্রম চলমান থাকবে। এই ধরনের উদ্যোক্ত্যাদের উৎপাদিত সার কৃষি অফিস ক্রয় করছে। আগামীতেও এ কার্যক্রম চলামান থাকবে।
অএ ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, এই সার উৎপাদনও ব্যবহারকারীদের উৎসাহিত করতে উৎপাদনকারীদের নিকট হতে কেঁচো সার ক্রয় করা হয়। আর এই সার বিভিন্ন প্রদর্শনীতে বিনামূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তিনি আরো বলেন, তার দেখাদেখি এখন টুলু বেগম,জামাল,রায়হান, রশিদ রাড়ি,মুরাদ হোসেন, কালাম সহ প্রায় ৩০টি পরিবার মডেল ভার্মি কম্পোস্ট সার (কেঁচো সার)উৎপাদন করে নিজেদের জমিতে ব্যবহার করছেন,এছাড়াও এই সার কৃষকের নিকট থেকে বরিশালের সারের দোকান ও কৃষি অফিস ক্রয় করে থাকেন।

ফেসবুকে লাইক দিন