আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে চান? - বিস্তারিত
ঢাকা আজঃ রবিবার, ২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জুন, ২০২৪ ইং, ৯ই জিলহজ্জ, ১৪৪৫ হিজরী
সর্বশেষঃ

ঝালকাঠিতে নতুন শিক্ষা কারিকুলামে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ২১৪৪ জন শিক্ষক

মশিউর রহমান রাসেল ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ বিষয় ভিত্তিক অষ্টম-নবম শ্রেণির শিক্ষকদের নুতন কারিকুলাম বিস্তরণে প্রশিক্ষণ চলছে। জেলার ৪ টি উপজেলার মধ্যে ৩টি উপজেলার শিক্ষকদের নিয়ে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। মাস্টার ট্রেইনার ঘাটতির কারনে বাকি ১টি উপজেলা রাজাপুরের শিক্ষকদের প্রশিক্ষন ২৪ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন জেলা শিক্ষক প্রশিক্ষন সমন্বয়ক ফারজানা ইয়াসমিন। শিক্ষকদের এই প্রশিক্ষণ চলবে সাত দিন ধরে। জেলার ৩ টি উপজেলার ৩২৪ টি মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২,১৪৪ জন শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ নিয়ে আগামিতে স্ব-স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শ্রেণি কক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাবেন।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া শিক্ষকরা বলছেন, প্রশিক্ষণের মধ্যে দিয়ে তাদের বিভিন্ন ঘাটতি পুরণ হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদান থেকে শুরু করে মুল্যায়ন পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে সহায়ক হবে এই প্রশিক্ষণ। সর্বোপরি এই প্রশিক্ষণ তাদের শিক্ষকদের আরো গতিশীল করবে।
নতুন কারিকুলাম বিস্তরণে যে ১১টি বিষয়ে প্রশিক্ষন দেওয়া হচ্ছে সে গুলো হচ্ছে, বাংলা, ইংরেজি, গণিত, ডিজিটাল প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা,শিল্প সংস্কৃতি, ইতিহাস ও সমাজ বিজ্ঞান, ইসলাম শিক্ষা, হিন্দু ধর্ম, বিজ্ঞান এবং জীবন জীবিকা।
নতুন কারিকুলাম বিস্তরণে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষকদের বাছাই করে তাদের প্রথমে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রশিক্ষক হিসেবে প্রস্তুত করা হয়। মাস্টার প্রশিক্ষক হিসেবে ওই প্রশিক্ষকরা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় গিয়ে দেখা গেছে, দ্বিতীয় তলা বিশিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কক্ষে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ চলছে। মাল্টিমিডিয়া এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশিক্ষকরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া নারী-পুরুষ শিক্ষকরাও মনযোগ সহকারে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ঝালকাঠি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক ফয়সাল আহমেদ জানান, নতুন কারিকুলাম শিক্ষার্থীদের জন্য চমৎকার। শ্রেণি কক্ষে শিখনকালিন ম্যুলায়নের বিষয়ে শিক্ষকরা দক্ষ্যতা এবং আন্তরিকতার সথে পরিচালনা করতে পারলে শিক্ষার্থীরা অনেক অনেক উপকৃত হবে। নতুন কারিকুলামের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সফল হবে। এই কারিকুলাম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে পারলে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এগিয়ে যাবে বলে ওই শিক্ষক বিশ্বাস করেন।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া চারুখান ডি এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিক পরিতোষ কুমার মন্ডল জানান, নতুন কারিকুলাম নিয়ে নানা ধরণের কথাবার্তা চলছিল। কিন্তু এই প্রশিক্ষণ সব ধারণা পরিবর্তন করে দিয়েছে। তার এই প্রশিক্ষণ শ্রেণি কক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ক্ষেত্রে অনেক সহায়ক হবে। শিক্ষার্থীদের কি ভাবে পাঠদান করানো হবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভালোভাবে ধারণা পেয়েছে। মুক্তধারা থেকে শুুরু করে মুল্যায়ন পর্যন্ত নানা বিষয় সম্পর্কে তাদের শিখানো হচ্ছে। নতুন কারিকুলাম সম্পর্কে পুনাঙ্গ ধারণা সে পেয়েছে। এ বিষয়ে তাকে আর কোন প্রশিক্ষণ নিতে হবে না বলে জানান ওই শিক্ষিক।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া জয়শ্রী আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মো: মাসুুদুর রহমান জানান, আমার ভিতরে যে সব অভাব ছিল প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে এরিমধ্যে তা পুরণ হয়েছে। ওই কক্ষের প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে প্রশিক্ষণে যতেষ্ট জ্ঞান অর্জন করছে।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কৃত্তীপাশা প্রশন্ন কুমার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকা শতাব্দী দত্ত জানান, অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকরা নানা ভাবে তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন কারিকুলাম বিষয়ে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানোর নানা বিষয় সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে সহায়ক ভুমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।
প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া শিক্ষকা শুভ্রা সাহা ও শিক্ষক মনতোষ চ্যাটার্জিসহ বেশকয়েকজন শিক্ষকের সাথে কথা হলে তারা জানান, নতুন কারিকুলাম অনুযায়ি শ্রেণি কক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানোর ক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষণ যতেষ্টগুরত্ব বহন করে। প্রযুক্তির ব্যবহার করে নানা ভাবে তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাঠদানের নানা কলাকৌশল সম্পর্কে তারা বাস্তব ধারণা পাচ্ছে।
প্রশিক্ষক গাজী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সে বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। তার কক্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩৭ জন শিক্ষক রয়েছে। মাল্টিমিডিয়াসহ নানা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে প্রশিক্ষণে। নতুন কারিকুলাম বিস্তরণে নানা ভাবে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে লব্ধজ্ঞান শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে সহায়ক হবে।
প্রশিক্ষক আব্দুস সোবহান ও বাবুল আহমেদ জানান, তাদের কক্ষে ৪৫ জনকে তারা বাংলা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। মাল্টিমিডিয়া, বিভিন্ন প্রযুক্তি, ইন্টারনেটযুক্ত অ্যানড্রোয়েট ফোন, পোষ্টারসহ নানা ধরণের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে প্রশিক্ষণে। শিক্ষকরা মনোযোগ সহকারে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া শিক্ষকরাও নানা বিষয় সম্পর্কে তাদের কাছ থেকে পরিস্কার ধারণা নিচ্ছেন। প্রশিক্ষকরাও নানা বিষয়ে শিক্ষকদের ধারণা দিচ্ছে।
ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: সিদ্দিকুর রহমান রহমান খান জানান, জেলার নলছিটি, ঝালকাঠি সদর ও কাঁঠালিয়া উপজেলায় রবিবার থেকে শুরু হয়েছে বিষয় ভিত্তিক ৮ম ও ৯ম শ্রেণি শিক্ষকদের নতুন কারিকুলাম বিস্তরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ। প্রতিটি উপজেলার শিক্ষকদের সাতদিন ধরে প্রশিক্ষণ চলবে। জেলার মাধ্যমিক স্তরের ৩২৪টি বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগড়ি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২,১৪৪ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। মোট ১৩২ জন প্রশিক্ষক এই প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।
শিক্ষা কর্মকর্তা মো: সিদ্দিকুর রহমান খান আরো জানান, এর আগেও ৫ দিনের প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে। এখন হচ্ছে ৭ দিনের। এই প্রশিক্ষনে শিক্ষকরা নতুন কারিকুলাম সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান লাভ করবে।
ঝালকাঠি সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: হারুন-অর-রশীদ জানান, ঝালকাঠি সদর উপজেলার মোট ৮০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৮০১ জন শিক্ষক ঝালকাঠি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ৪১ জন মাস্টার ট্রেনার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। হিন্দু ধর্মের ৩ উপজেলার নলছিটি ১৫ জন, রাজাপুর ১৯, ঝালকাঠি সদর ৪০ জন শিক্ষক প্রশিক্ষন নিচ্ছেন

ফেসবুকে লাইক দিন