আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে চান? - বিস্তারিত
ঢাকা আজঃ শুক্রবার, ৬ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৪ ইং, ৯ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরী
সর্বশেষঃ

ভোলার লালমোহনে জমে উঠেছে স্মার্টফোনে জুয়া খেলা, ধ্বংসের পথে যুব সমাজ

মোঃ ছাইফুল ইসলাম-(জিহাদ), লালমোহন ভোলাঃ ভোলার লালমোহন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে জমে উঠেছে স্মার্টফোনের মাধ্যমে জমজমাট লুডু খেলা, যেটা এখন জুয়ার আসরে পরিণত। এতে করে দিনদিন ধ্বংসের পথে যাচ্ছে স্মার্ট ফোনে আসক্ত হওয়া বর্তমান প্রজন্মের ছাত্র ও যুবসমাজ। এক সময়ে যে লুডু খেলার বোর্ড ছিল কাগজের তৈরি, বর্তমানে সে খেলাটি স্মার্ট ফোনে সফটওয়্যারের মাধ্যমে পাওয়া যায়। আর সেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে’ই দিনে কিংবা গভীর রাত পর্যন্ত দোকান বা রাস্তা ঘাটে চালাচ্ছে জুয়ার আসর। এ যেন দেখার’ই কেউ নেই।
দেখা যাচ্ছে উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নে কিশোর, যুবক, স্কুল-কলেজ ও মাদরাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা গ্রামগঞ্জের অলি-গলি, চায়ের দোকান কিংবা রাস্তার পাশে বসে এ জুয়া খেলায় আসক্ত রয়েছে।
জানা যায়, স্মার্টফোনে (লুডু কিং) নামে একটি সফটওয়্যার ইনস্টল করে সর্বোচ্চ আটজন মিলে এ খেলাটি খেলা যায়। এই সফটওয়্যারে দুই প্রকারের খেলার ধরন রয়েছে। একটি অনলাইনের মাধ্যমে আর অন্যটি একইসাথে সকলে বসে স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে এ খেলাটি খেলা যায়। তবে এই সফটওয়্যারটি দিয়ে বেশীরভাগ’ই অনলাইন ছাড়া একসাথে চারজনের খেলার প্রবণতা’ই বেশি দেখা গেছে।
স্থানীয় একাধিক যুবকদের সঙ্গে আলাপ কালে জানা যায়, চারজন মিলে এ খেলাটি খেললে, এক একটি গেম শেষ হতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে। প্রতি গেমে বাজি ধরা হয় ১০০ থেকে ৫০০ টাকা। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে টাকার পরিমাণ আরো বেশি হয়।
এক স্কুলশিক্ষক জানান, দেখা যাচ্ছে বেশীরভাগ’ই বর্তমান যুবকরা এই খেলাটি বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, চায়ের দোকান এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলের রাস্তা ঘাটে খেলতে দেখা যায় এ জুয়ার জমজমাট আসর। যারা লুডুর মাধ্যমে জুয়া খেলে, তারা একযোগ হয়ে একটি মোবাইলের মাধ্যমে এ খেলাটি খেলতে বসে।
সচেতন মহলের ব্যক্তিবর্গরা জানান, এসব জুয়াড়িরা যখন সর্বস্ব হারিয়ে ফেলে, তখন তারা নানা অপরাধে সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। আবার দেখা যাচ্ছে অনেকের পরিবারে নানা ধরনের কলহ বিবাদ সৃষ্টি হয়। তাই এ ধরনের জুয়া বন্ধে জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

ফেসবুকে লাইক দিন