আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে চান? - বিস্তারিত
ঢাকা আজঃ শুক্রবার, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জুন, ২০২৪ ইং, ৭ই জিলহজ্জ, ১৪৪৫ হিজরী
সর্বশেষঃ

সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে ভাবনা!!

ভোলার খবর ডেস্ক: সমুদ্রের সম্পদ নির্ভর অর্থনীতি হচ্ছে সমুদ্র অর্থনীতি। সমুদ্রের বিশাল জলরাশি ও এর তলদেশের বিভিন্ন প্রকার সম্পদকে কাজে লাগানোর অর্থনীতি। অর্থাৎ, সমুদ্র থেকে আহরণকৃত যে কোন সম্পদ দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হয়, তাই সমুদ্র অর্থনীতি। সমুদ্র পৃথিবীর অন্যতম মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের উৎস। সমুদ্র থেকেই মাছ কিংবা মৎস্য সম্পদের মাধ্যমে খাবার চাহিদা ও অন্যান্য অর্থনৈতিক চাহিদা মেটায়। সমুদ্র মানুষ এবং পন্য পরিবহনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও সমুদ্র নানা ধরনের প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ যেমন বালি, লবণ, কবাল্ট, গ্রাভেল, এবং কপার ইত্যাদির আধার হিসেবে ব্যবহূত হয় এবং তেল ও গ্যাস আহরণ ক্ষেত্র হিসেবে সমুদ্র প্রয়োজন হয়। এসব উপাদান সমষ্টিকেই বলা হয় সমুদ্র অর্থনীতি।
সমুদ্র অর্থনীতি ও বাংলাদেশ:
বাংলাদেশের জিডিপির মাত্র ৪-৫ শতাংশ আসে সমুদ্র অর্থনীতি থেকে। এটার পরিমাণ বার্ষিক প্রায় ৯৬০ কোটি ডলার। অথচ সমুদ্র থেকে শুধু মাছ রফতানি থেকেই ১০-১২ হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব।
সমুদ্র অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য, সমুদ্র সম্পদ আহরণ ও গবেষণা এগিয়ে নিতে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে কক্সবাজারে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু করা হয় সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগ। ২০১৭ সালে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠন করা হয় ‘ব্লু ইকোনমি সেল’। ব্লু ইকোনমির সঙ্গে সরকারের ১৭টি মন্ত্রণালয় এবং ১২টি সংস্থা জড়িত।
২০১২ সালে নুতন করে সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হবার পরে ২৬টি নতুন ব্লকে একে বিন্যাস করা হয়। এর মধ্যে ১১টিকে অগভীর ও ১৫টিকে গভীর সমুদ্রের ব্লক হিসেবে স্থির করা হয়। এরপর কেটে যায় বছরের পর বছর। ২০১৯ সালে জানা যায় মাত্র ৪টি ব্লকে অনুসন্ধানের জন্য বিদেশী কোম্পানির সাথে চুক্তি হয়েছে। তারা কাজ করে খুব ধীরগতিতে। একটি কুপও তখনো খনন করা হয়নি। বাকি ২২টি ব্লক খালি পড়ে থাকে। ২০২২ সালে এতটুকু অগ্রগতির তথ্য জানা যায় যে, বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানে জরিপ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ন্যূনতম ১৭ থেকে ১০৩ ট্রিলিয়ন কিউবিক ফিট (টিসিএফ) গ্যাস হাইড্রেটস মজুদ রয়েছে।
শুধু গ্যাসের কথা নয়, সমুদ্রবিরোধ নিরসনের পরে ‘সেভ আওয়ার সি’-এর প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রতি বছর বঙ্গোপসাগর থেকে আশি লাখ টন মাছ ধরা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের জেলেরা ধরতে পারছেন মাত্র ৭ লাখ টন মাছ। দেশে বছরে যে পরিমাণ মাছ অহরণ হয়, তার মাত্র ১৫ শতাংশ আসে গভীর সমুদ্র থেকে। উপকুলীয় এলাকার ৫০ লাখের বেশি মানুষের আয়ের প্রধান উৎস সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ। কিন্তু তারা এখনো মূলত প্রচলিত পদ্ধতিতেই সীমাবদ্ধ। ফলে দেশের নৌযানগুলো গভীর সমুদ্র থেকে মৎস্য আহরণ করতে পারছে না। টুনা মাছের মতো মূল্যবান সম্পদ মূলত গভীর সমুদ্রেই থাকে। আবার যেসব সামুদ্রিক মাছ আগে অগভীর সমুদ্রে দু-চার ঘণ্টার দূরত্বে পাওয়া যেত, তাদের মধ্যে লাক্ষা, সার্ডিন, পোয়া, লটিয়া, ফলি চান্দা, হরিণা চিংড়ি ও কাটা প্রজাতির মাছ এখন পেতে হলে যেতে হয় এক-দুই দিনের দূরত্বে। এ জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত জাহাজ আবশ্যক। এখানে জরুরি হলো বেসরকারি বিনিয়োগকে উদ্বুদ্ধ করা ও এর অনুকুল পরিবেশ নিশ্চিত করা।
উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্র কেন্দ্রিক পর্যটন চলমান রয়েছে। তবে সম্ভাবনা কাজে লাগানো হচ্ছে কম। ফলে এ খাতে দেশের আয়ের পরিমাণও কম। পর্যটন স্পটগুলোর উন্নয়ন দরকার। সি ট্যুরিজমের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। পর্যটন এলাকায় প্রয়োজনে সার্ফিং জোন, পানির নিচে ভ্রমণ-ব্যবস্থা, কমিউনিটিভিত্তিক যোগাযোগ স্থাপন। পর্যটন এলাকায় আমাদের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক সুকৃতির প্রতিফলন থাকা উচিত। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সমুদ্রের পানি ব্যবহার করে লবণ উৎপাদন বাড়ানো যায়। জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ ভাঙা শিল্প সমৃদ্ধ করা জরুরি। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় রয়েছে বিপুল পরিমাণে ভারী খনিজ। আছে ২২০ প্রজাতির সাগর-উদ্ভিদ, ৩৪৭ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, ৪৯৮ প্রজাতির ঝিনুক, ৫২ প্রজাতির চিংড়ি, ৫ প্রজাতির লবস্টার, ৬ প্রজাতির কাঁকড়া এবং ৬১ প্রজাতির সি-গ্রাস।
এসব জৈব-অজৈব সম্পদ সাগর- অর্থনীতিতে তরঙ্গ তৈরি করতে পারবে। সমুদ্রতলের গ্যাস, মৎস্যসহ অন্যান্য সম্পদ আহরণ, বন্দরের সুবিধা সম্প্রসারণ ও পর্যটনের ক্ষেত্রে যথোচিত কার্যক্রম সম্পন্ন হলে ২০৩০ সাল নাগাদ সমুদ্র থেকে প্রতি বছর আড়াই লাখ কোটি ডলার আয় করা সম্ভব।
সমুদ্রবাণিজ্য ও অর্থনীতির খাত অনেক, এর পরিসর ব্যাপক। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে সমুদ্র-সম্পদের বহুমাত্রিক ব্যবহারে সক্ষমতা অর্জনের মধ্য দিয়েই এ খাতগুলোতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যেতে পারে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা জরুরি।
বাংলাদেশে সমুদ্র অর্থনীতির বিদ্যমান সমস্যা:
পরিবেশগত অবনতি: বাংলাদেশের সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র বিভিন্ন পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যার মধ্যে রয়েছে দূষণ, অতিরিক্ত মাছ ধরা এবং আবাসস্থল ধ্বংস। এগুলি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য এবং সমুদ্র অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তন: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং সমুদ্রের অম্লকরণ বাংলাদেশের সমুদ্র অর্থনীতির জন্য উল্লেখযোগ্য সমস্যা।
সীমিত অবকাঠামো: টেকসই বন্দর, জেটি এবং কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা সহ পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব বাংলাদেশের সমুদ্রঅর্থনীতির বৃদ্ধি ও বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে।
শাসন ও নীতি: সীমিত প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা, দুর্বল শাসন, এবংঅপর্যাপ্ত নীতি বাংলাদেশের সমুদ্র অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
মৎস্য আহরণ ব্যবস্থাপনা (মনিটরিং, কন্ট্রোল ও সার্ভিল্যান্স): পর্যাপ্ত সামুদ্রিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে সমুদ্র অর্থনীতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারের সরাসরি ব্যবস্থাপনার (যেমন মনিটরিং, কন্ট্রোল ও সার্ভিল্যান্স) মাধ্যমে এই সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে।
বাংলাদেশে সমুদ্র অর্থনীতির সম্ভাবনা:
 মৎস্য ও জলজ চাষ: বাংলাদেশের দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং বিস্তৃত নদী নেটওয়ার্ক মৎস্য ও জলজ চাষের উন্নয়নের জন্য উল্লেখযোগ্য সুযোগ প্রদান করে। এই খাতগুলো দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার পাশাপাশি লাখ লাখ মানুষের জীবিকা নির্বাহের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
সামুদ্রিক শক্তি: বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় বায়ু, তরঙ্গ এবং জোয়ার শক্তির বিকাশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমনে অবদান রাখতে পারে।
উপকূলীয় পর্যটন: বাংলাদেশের দীর্ঘ উপকূলরেখা, সমুদ্র সৈকত এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উপকূলীয় পর্যটন বিকাশের জন্য প্রচুর সম্ভাবনা প্রদান করে। এটি উপকূলীয় স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য আয় এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যাপ্ত বিনোদন ও মনোরম পরিবেশের ব্যবস্থা করতে পারলে এ খাত থেকে আয়ের পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে।
সামুদ্রিক জৈবপ্রযুক্তি: বাংলাদেশের সামুদ্রিক অঞ্চল সামুদ্রিক জৈবপ্রযুক্তির বিকাশের সুযোগ প্রদান করে। এটি নতুন ওষুধ, খাদ্য সম্পূরক এবং অন্যান্য পণ্য আবিষ্কার করতে পারে।
সী ফুড প্রসেসিং: বিশাল সমুদ্র উপকূল সী ফুড প্রসেসিং এর সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এখান থেকে রফতানিযোগ্য সামুদ্রিক সম্পদসমূহ প্রসেস করা হয়। বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের প্রায় সিংহভাগই সুনীল অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে আসে।
বাংলাদেশে সমুদ্র অর্থনীতির ভবিষ্যত:
সাগরের জলরাশি আর এর তলদেশের বিশাল সম্পদকে কাজে লাগানোই সমুদ্র অর্থনীতি। এর প্রধান উপাদান সমুদ্রের মৎস সম্পদ, জ্বালানি ও খনিজ আহরণ। ২০১২ এবং ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক সালিশ আদালতের (PCA) রায়ে মিয়ানমার আর ভারতের সাথে বাংলাদেশের সমুদ্র সীমার বিরোধ নিস্পত্তি হলে বাংলাদেশ প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার (মিয়ানমারের সাথে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ আর ভারতের সাথে ১৯ হাজার ৪৬৭ বর্গ কিলোমিটার) সমুদ্র এলাকা পায়। ফলে সমুদ্র অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ একটি অতি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিবেচিত হতে থাকে।
পৃথিবীর ক্রম- বর্ধমান জনসংখ্যা আর জলবায়ুর বিপর্যয়কে বিবেচনায় নিলে ২০৫০ সাল নাগাদ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের সাগরের উপর নির্ভর করার কোনো বিকল্প নেই। অর্থনীতির মূল চালিকা জ্বালানির মূল উৎস সুমদ্রই হবে। তাই সমুদ্র অর্থনীতির জন্য একটি যুগোপযুগী পরিকল্পনা প্রণয়ন করে ধারাবাহিক বাস্তবায়ন দরকার। সমুদ্র বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশ সুমদ্র হতে ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অধিক সম্পদ প্রতি বৎসর আহরণ করতে পারবে।
জ্বালানি তেল আর মৎস সম্পদ সাগরের প্রধান প্রচলিত সম্পদ। এর আরো অন্যান্য খাত হলো: গ্যাস, সামুদ্রিক জীব ও উদ্ভিদ, সামুদ্রিক শ্যাওলা, দুষ্প্রাপ্য ধাতু, সুমদ্র ট্যুরিজম, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সমুদ্র বন্দর, সমুদ্র পথ ও সমুদ্র বাণিজ্য ইত্যাদি ধরণের ২৫ টির বেশি।
সমুদ্র বাণিজ্য: বাংলাদেশের বহিঃ বাণিজ্যের ৯০ শতাংশ সমুদ্র পথে। এক বা একাধিক বহিঃ সমুদ্র বন্দর নির্মাণ বাংলাদেশের এই বাণিজ্যকে আরো সমৃদ্ধ করবে; সাথে সাথে ভারত, নেপাল, ভুটান আর চীনকে সমুদ্র বন্দর সেবা দেয়ার মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের মত ধনী অর্থনীতির দেশে পরিণত হওয়ার সুযোগ তৈরী হবে। এর অনুসঙ্গ হিসেবে জাহাজ নির্মাণ শিল্প বিকশিত করা যাবে।
মৎস ও অন্যান্য সামুদ্রিক জীব আহরণ: বর্তমানে বাংলাদেশ সাগর হতে প্রায় ৪৭৫ প্রজাতির মৎস ও সামুদ্রিক জীব আহরণ করে। এতে যুক্ত পুরোনো অযান্ত্রিক কাঠের নৌকা যার সংখ্যা ৭৫ হাজারের বেশি। মাত্র ২৫০ টি যান্ত্রিক মৎস ধরার ট্রলার এখন যুক্ত আছে। আর এতে ২৫ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। বর্তমান এই সম্পদ আহরণ আহামরি কিছু নয়-মাত্র ৫ লক্ষ মেট্রিক টন। সঠিক পরিকল্পনা আর যান্ত্রিক মৎস ট্রলার ব্যবহার এই পরিমাণকে অনন্ত ৫০ গুন বেশিতে উন্নয়ন করতে পারবে।
সামুদ্রিক শ্যাওলা ও একোয়া কালচার: সামুদ্রিক শ্যাওলা (Ocean Writs) ও অন্যান্য সামুদ্রিক একোয়া কালচার পরিকল্পনা করে বৃদ্ধি করা যেতে পারে। এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত। এর ফলে দেশের প্রোটিন চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।
প্রচলিত জ্বালানি: আমাদের সাগর উপকূল গ্যাস আর জ্বালানি তেলের আধার। সঠিক টেকনোলজির প্রয়োগ অতি স্বল্প মূল্যে এই সম্পদ আহরণ সম্ভব। এখন কিছই ব্লক করে বিদেশী কোম্পানিগুলোকে ইজারা দেয়া হয়েছে। আশা করা যায় শীগ্র এর সুফল পাওয়া যাবে।
সুমদ্র স্রোত বিদ্যুৎ: সুমদ্র স্রোত ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন এই শতাব্দীর একিট বড় অর্জন। এটি ব্যয় স্বল্প সম্পন্ন হওয়ার জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আমাদের সাগরে এই প্রজেক্ট করার সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে পারলে দেশের পাওয়ার সেক্টর স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে- আর এটি হবে পরিবেশ বান্ধব নবায়ন যোগ্য জ্বালানি উৎপাদন পদ্ধতির।
সৌর বিদ্যুৎ: আমাদের রয়েছে দীর্ঘ সাগর সৈকত যার অনেক অংশ মানুষের জন্য ব্যবহার যোগ্য নয়। আরো রয়েছে জনমানবহীন অনেক দ্বীপ। এই স্থানগুলোতে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে তা যেমন নবায়নযোগ্য আর পরিবেশ বান্ধব হবে- অন্যদিকে বিদেশে রপ্তানি করে অর্থনীতির উন্নয়ন করা যাবে।
সামুদ্রিক ট্যুরিজম: বর্তমান বিশ্বে এই ট্যুরিজম ক্রমাগত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এটি বিনোদনমূলক যা মানুষকে কাজের শক্তি যোগায়। আরেক দিকে এটি স্বাস্থ পুনরুদ্ধারের একটি ভালো উপায়।
দুষ্প্রাপ্য ধাতু: আমাদের সমুদ্র উপকূলে ১৩ ধরণের সম্মৃদ্ধভারী ধাতু পাওয়া যায় যার কয়েকটি স্বর্ণের চাইতে দামি। এগুলোর মধ্যে ইলমিনাইট, গ্রেনেড, কলমিনাইট, জিরকন, রেটাইল, ম্যাগনেটাইট ইত্যাদি কয়েকটি। সঠিক পদ্ধতিতে আহরণ হলে এগুলো বিলিয়ন ডলার ব্যবসা হতে পারে।
বাংলাদেশের সময় এসেছে বিদ্যমান অর্থনীতিতে সমুদ্র অর্থনীতিকে সংযুক্ত করার। এর ফলে দেশের উন্নয়ন হবে টেকসই। এজন্য দেশের বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজনে আরো বেশি করে দেশি-বিদেশী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপযুক্ত করে গড়ে তোলা। এরপর তাদের নেতৃত্বে প্রয়োজনে বিদেশী বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় একটি সমন্বিত সমুদ্র অর্থনীতির পরিকল্পনা প্রণয়ন করা। এতে প্রয়োজনে দেশি-বিদেশী বিনিয়োগ নিশ্চিত করে ধারাবাহিক বাস্তবায়ন করার ব্যবস্থা করা। তাহলে আমাদের একদিকে যেমন একটি সুন্দর আর কার্যকরী সমুদ্র অর্থনীতির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে; আর তার ফলস্বরূপ দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে।

ফেসবুকে লাইক দিন