পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা দুদকের জালে

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়সহ ৬৯টি আঞ্চলিক অফিসের অর্ধ শতাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একযোগে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন অভিযোগ আমলে নিয়ে সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে এরইমধ্যে নজরদারি শুরু হয়েছে।

পাসপোর্টে আবেদন ফরম পূরণ থেকে শুরু করে ছবি তোলা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে হয়রানির যেনো শেষ নেই। তবে অফিসের কর্মকর্তাদের নিজস্ব দালালের হাতে ঘুষের টাকা তুলে দিলেই ত্বরিতগতিতে সমাধান।

এদিকে, দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়েছে, অলিখিতভাবে দালাল নিয়োগ দিয়ে পাসপোর্ট অফিসগুলোতে প্রতিদিন প্রকাশ্যে চলে কারবার। অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে পাসপোর্ট দিয়ে অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের একটি চক্রেরও ভারি হচ্ছে পকেট।

একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন এবং সুনির্দিষ্ট কয়েকটি অভিযোগ আমলে নিয়ে পরিচালক, উপপরিচালক, সহকারী পরিচালকসহ অর্ধশতাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে দুদক।

দুদক কমিশনার (তদন্ত) জহুরুল হক বলেন, ‘পাসপোর্ট অফিসের অভিযোগ আমাদের কাছে আছে। যে সব তথ্য পেয়েছি সেইসবের ভিত্তিতে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছি। অনুসন্ধানে যদি সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে আমরা মামলা নিয়ে তদন্ত শুরু করব।’

দুদকের আমলে নেয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা ও ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যু, দালাল-সিন্ডিকেট প্রতিপালন, পদোন্নতি দেওয়া, পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন দুর্নীতিতে জড়িত অধিদপ্তরের একশ্রেণির কর্মকর্তা।

একযোগে দেশের সব পাসপোর্ট অফিস দুদকের অনুসন্ধানের আওতায় আসায় দুর্নীতি কিছুটা হলেও কমবে বলে মনে করেন দুদক কমিশনার জহুরুল হক। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কাওকে এমনি ছেড়েও দিবনা আবার কাওকে জোড় করে ধরবনা। আমরা চেষ্টা করি দুর্নীতি যেন কমানো যায়। আমরা আশা করছি দুর্নীতি কমে আসবে।’

শিগগিরই অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক।

ফেসবুকে লাইক দিন