প্রধানমন্ত্রীর উপহারের সেই জমি তিন বছরেও বুঝে পাননি ফুটবলার আঁখি

 

 

অনলাইন ডেস্ক:

বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় একাধিকবার গোল্ডেন বুট জয়ী বাংলাদেশের জাতীয় নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড় আঁখি খাতুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া উপহারের বাড়ির জমি তিন বছরেও বুঝে পাননি। ফলে এখনো জীর্ণ ঘরেই মানবেতর জীবনযাপন করছে আঁখির হতদরিদ্র পরিবার।

২০১৭ সালে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ।

ওই টুর্নামেন্টে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়ে আঁখি খাতুন গোল্ডেন বুট পান। এরপর বিভিন্ন খেলায় একাধিকবার তিনি গোল্ডেন বুটে জিতেছেন। তার খেলায় আপ্লুত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের মে মাসে আঁখির জন্য পাঁচ শতক জায়গা বরাদ্দের ঘোষণা দেন।

ওই বছরের ৪ মে স্থানীয় প্রশাসন শাহজাদপুর পৌরসভার মনিরামপুর এলাকার ১নং খতিয়ানভুক্ত পাঁচ শতক জায়গা অবমুক্ত ও নির্ধারণ করে ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায়। এর ১৫ দিনের মাথায় শাহজাদপুর বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর রবিন আকন্দ এ জায়গার মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করেন। সেই থেকে ঝুলে যায় আঁখির জমিপ্রাপ্তি। ফলে জীর্ণ কুটিরেই বাবা, মা ও স্নাতকপড়ুয়া ভাইকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই খেলোয়াড়।

সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের চালা দিয়ে পানি পড়ে। আঁখি বাড়ি এলে মা-বাবার সঙ্গে এ ঘরেই থাকেন।

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ওই জায়গায় জনতা ব্যাংক আঁখিকে বাড়ি করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু মামলাজনিত জটিলতায় আটকে আছে বাড়ি নির্মাণের কাজ।

আঁখি খাতুন বর্তমানে বিকেএসপির দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। পাশাপাশি জাতীয় দল, বয়সভিত্তিক দল ও এএফসি কাপ অনূর্ধ্ব-১৬ দলেও খেলছেন আঁখি। পড়ালেখা ও অনুশীলনের জন্য তিনি সেখানেই অবস্থান করেন।

আঁখির বাবা আক্তার হোসেন জানান, মনিরামপুরে আঁখির নামে প্রস্তাবিত জমির বর্তমান মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। এটা বাদ দিয়ে দ্বাবারিয়ায় যে জমি দেওয়ার প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে, তার মূল্য মাত্র ১০ লাখ টাকা। তাই আমাদের দাবি প্রথম প্রস্তাবিত মনিরামপুরের জায়গাটি দ্রুত অবমুক্ত করে আঁখির নামে বরাদ্দ দেওয়া হোক। তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জমি দখলে নেওয়া রবিন আকন্দ বলেন, পত্তনি সূত্রে আমার পূর্বসূরিরা এ জমির মালিক। ওয়ারিশ হিসেবে জমি রক্ষায় আদালতে সুবিচার চেয়ে মামলা করেছি।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, এসএ, আরএসের কাগজে জমিটি ১নং খতিয়ানভুক্ত হওয়ায় এ জমিটি আঁখি খাতুনের নামে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। মামলাজনিত কারণে মনিরামপুরের জমির বদলে দ্বাবারিয়া মৌজায় আরেকটি জমি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এটি অনুমোদন হয়ে এলে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এ জমি আঁখিকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন