ভোলা প্রতিনিধি: প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী শুরু হয়েছে নৌযান শুমারি। দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানের সঠিক সংখ্যা, ধরন ও অন্যান্য তথ্যের ডাটাবেজ তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এ শুমারি পরিচালিত হচ্ছে।
বুধবার (২০ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া এ তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত। এরই ধারাবাহিকতায় দ্বীপজেলা ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে নৌযান শুমারির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ১০ দিনব্যাপী এ শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌযান খাতের প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহকারী দলগুলো বিভিন্ন ঘাট ও জলসীমায় অবস্থান করে ইঞ্জিনচালিত নৌযানের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবে। এর মধ্যে নৌযানের নাম, মালিকের তথ্য, ধারণক্ষমতা, ইঞ্জিনের ধরন, চলাচলের রুট ও বৈধ কাগজপত্রসহ বিভিন্ন তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। শুমারির আওতায় ২৬ ক্যাটাগরির নৌযানের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে স্বল্প দূরত্বে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বোট, দূরপাল্লার যাত্রীবাহী লঞ্চ বা জাহাজ, বালিবাহী নৌযান (বাল্কহেড), বালু তোলার ড্রেজার, পণ্যবাহী নৌযান, মালবাহী নৌযান, স্পিডবোট, কাটার সাকশন ড্রেজার, ট্যুরিস্ট বোট, পন্টুন, ইঞ্জিনচালিত বার্জ, ফেরি, হাউজ বোট, তেলবাহী জাহাজ, ডাম্ববার্জ, পরিদর্শন বোট, টাগবোট, ক্রেনবোট, ক্রুজশিপ, গ্যাসবাহী নৌযান, ফ্লোটিং পাম্প, ওয়াটার ট্যাক্সি, উদ্ধারকারী জাহাজ ও ফ্লোটিং হাসপাতাল।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরিচালক আব্দুল খালেক জানান, দেশের নৌযানের একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার তৈরির লক্ষ্যেই এ শুমারি পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নৌযান খাতের প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। জানা গেছে, ভোলা জেলায় ২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ২৬৭টি ঘাটে নৌযানের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। উপকূলের ২০ জেলার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য নদী ও জলসীমায় থাকা ইঞ্জিনচালিত নৌযানের তথ্যও সংগ্রহ করা হবে। ইতোমধ্যে তথ্য সংগ্রহকারী দলের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। শুমারির কার্যক্রম তদারকির জন্য কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে।
নৌপরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের নৌযানের প্রকৃত সংখ্যা ও ধরন সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য না থাকায় নৌপথের নিরাপত্তা, ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ শুমারির মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি হলে নৌ-নিরাপত্তা জোরদার, নীতিনির্ধারণ, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং নৌ খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে। দেশে ২০০৯ সালে জেলে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হলেও নদী ও সাগরে চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত ফিশিং ট্রলার ও অন্যান্য নৌযানের প্রকৃত সংখ্যা এতদিন অজানা ছিল। এবার প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারির মাধ্যমে এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির যুগ্মসম্পাদক শেখ আল-মামুন বলেন, নৌযান শুমারি নিয়ে জেলেপল্লিতে উচ্ছ্বাস রয়েছে। জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি একটি যথাযথ উদ্যোগ বলে তিনি মনে করেন। ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণ প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ও মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোল্লা এমদাতউল্লাহ বলেন, শুমারির মাধ্যমে নৌযানের সঠিক তথ্য জানা যাবে। এর ফলে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নৌযান খাতের পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হুসাইন জানান, দ্বীপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬ জন। এর মধ্যে সমুদ্রগামী জেলের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন এবং নদীতে মাছ ধরেন ১ লাখ ৪ হাজার ৫২ জন জেলে। তবে নদী ও সাগরে কী পরিমাণ ইঞ্জিনচালিত ফিশিং ট্রলার বা নৌযান রয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান বর্তমানে তাঁর কাছে নেই। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রথমবারের এই নৌযান শুমারির মাধ্যমে দেশের নদী ও সমুদ্রপথে চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানের একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি হবে। ভবিষ্যতে নৌপথের নিরাপত্তা, মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নৌযান নিবন্ধন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে এ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।