বোরহানউদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর জিটকা বাজার সংলগ্ন এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা ও কুপিয়ে জখমের অভিযোগ উঠেছে। এতে পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪ জন গুরুতর আহত হয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত মো. জামালের অভিযোগ, জিটকা মৌজার এসএ ১০৯ খতিয়ানের ২৩ ও ২৪/২৬৮ দাগের ৩২ শতাংশ জমি নিয়ে তাদের সঙ্গে ওলিউল্লাহ গংয়ের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ ঘটনায় বোরহানউদ্দিন থানায় ৮-১০ বার অভিযোগ দিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও প্রতিপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত মানেননি বলে দাবি করেন তিনি।
জামাল জানান, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে থানায় একটি মামলা চলমান রয়েছে। এর আগে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে জমিতে ধান রোপণ না করার নির্দেশ দেয়। পরে স্থানীয় সালিশ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আগামী ২২ আগস্ট শনিবার জমি পরিমাপ করে সরেজমিনে যার জমি তাকে বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে ওলিউল্লাহ গং লোকজন নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে ধান রোপণ শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে আঃ মান্নান চৌকিদার গং তাদের ধান রোপণে নিষেধ করলে একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে জখম করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আহত পক্ষ।
আহতরা হলেন—আঃ মোতালেব (৬০), মো. জামাল (৪৩), আঃ মান্নান (৬৫), মো. ইসমাইল (৫৫) ও মো. ফোরকান (২২)। তাদের মধ্যে ফোরকান গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত পক্ষের অভিযোগ, হামলায় ওলিউল্লাহ, আইয়ুব আলী, জহিরুল ইসলাম, জিন্না, নয়ন, খাদিজা ও রোসনা জড়িত ছিলেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন জানান, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে আগামী শনিবার পরিমাপের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তাদের দাবি, পরিমাপের আগেই কোনো পক্ষের জমিতে ধান রোপণ না করলেই বিরোধ এড়ানো সম্ভব হতো। মাপজোখের পর যে পক্ষ জমির মালিকানা পেত, তারাই জমিতে ধান রোপণ করতে পারতেন।
অভিযোগের বিষয়ে ওলিউল্লাহ বলেন, “জমিটি আমাদের। তাই আমরা ধান রোপণ করেছি। মীমাংসায় যে পক্ষ জমি পাবে, সে জমি নেবে।”
বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে পরবর্তী সময়ে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।