হেলাল উদ্দিন লিটন, তজুমদ্দিন (ভোলা): ভোলার তজুমদ্দিনে সমুদ্রগামী জেলেদের মাঝে সরকারি বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ করায় হামলা পাল্টা হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের দুইজনকে প্রথমে তজুমদ্দিন হাসপাতালে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলায় রেফার করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে পুলিশ। আহত ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড়মলংচড়া ইউনিয়নের সমুদ্রগামী ৪১০জন জেলের বিপরীতে ৩১ টন ৫শত কেজি চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। কিছুদিন পূর্বে প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ ইব্রাহিম দুইবারে সরকারি গোডাউন থেকে ২৫টন চাল নিয়ে বিতরণের প্রস্তুতি নেয়া। এতে একই ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি ও বীরমুক্তিযোদ্ধা হোসেন পাটওয়ারীর ছেলে মো. জসিম উদ্দিন ১০ জুন রাতে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তাকে মৌথিকভাবে জানান। সেই অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা উভয় পক্ষকে ১১ জুন সকালে তার কার্যালয়ে ডাকেন। পরে তিনি উভয় পক্ষের কথা শুনে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সাথে পরামর্শ করে জেলেদের তালিকা জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বের হয়ে দুইপক্ষই বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। তবে উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ করেন। হামলায় উভয় পক্ষের ৫জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে জসিম উদ্দিন (৪৫) ও প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ ইব্রাহিমকে (৫০) প্রথমে তজুমদ্দিন হাসপাতালে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। জানতে চাইলে প্রত্যক্ষদর্শী মলংচড়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ সেলিম বলেন, ইউএনও স্যারের সাথে কথা শেষ করে বের হওয়ার সময় প্যানেল চেয়ারম্যান
ইব্রাহিম ইউএনও স্যারকে নিয়ে অশালিন মন্তব্য করেন। তখন জসিম তার প্রতিউত্তর করলে ইব্রাহিম একটি রুপা দিয়ে জসিমের মাথায় আঘাত করলে তার মাথা ফেটে রক্ত পড়তে থাকে। ইব্রাহিম তখন দৌড়ে পালিয়ে যায়। আহত জসিম জানান, প্যানেল চেয়ারম্যান ইব্রাহিম জেলেদের বরাদ্দে সাড়ে ৬টন চাল গোডাউনে রেখে দেন। আমি বিষয়টি ইউএনও স্যারকে জানালে প্যানেল চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে আমার উপর হামলা করে পালিয়ে যায়। প্যানেল চেয়ারম্যান ইব্রাহিম বলেন, ইউএনও স্যারের রুম থেকে বের হওয়ার পরে জসিম আমাকে পিছন থেকে ধরে রেখেছে আর সেলিম মেম্বারসহ চরজন মারছে। আমি জান নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে এসেছি। তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের ঘটনা শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া
হবে।
উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মোঃ বনি আমিন বলেন, স্পীকার স্যারের সাথে কথা হয়েছে। তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন যেই দোষী হোক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে। কারো কোন রাজনৈতিক পরিচয় দেখার সুযোগ নেই। ওসি সাহেবকে সেভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।