ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়ন ২ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ শতাংশ জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের জেরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় আবেদন করা হয়েছে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে বিবাদীপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি এবং জমির প্রকৃত দখল সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্রে জানা যায়, টবগী ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দিলিপ কুমার দত্ত (৫৮), পিতা মৃত সুধীর চন্দ্র দত্ত, গত ৩০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে সংঘটিত একটি ঘটনার উল্লেখ করে মিহির লাল দে (৪৮), রুবেল দত্ত (৪৫) ও ইভেন চন্দ্র দে (২৮)-এর বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিবাদীপক্ষ বিরোধীয় জমিতে প্রবেশ করে গাছ কাটার চেষ্টা, ইট-বালু-সিমেন্ট এনে ঘর নির্মাণ এবং জমি দখলের চেষ্টা করে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা দেখা দেয়।
বাদীপক্ষের দাবি, বিরোধীয় জমিটি তাদের পূর্বপুরুষের সম্পত্তি। আবেদনে বলা হয়েছে, মৌজা টবগীর এসএ ২৫৭ নম্বর খতিয়ানে জগবন্ধু গং-এর নামে রায়তি স্বত্ব রেকর্ডভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে উত্তরাধিকার সূত্রে জমির মালিকানা সুধীর চন্দ্র দত্তের মাধ্যমে বর্তমান বাদীপক্ষের কাছে আসে। তিনি আরো বলেন যেহেতু জমি নিয়ে মামলা ও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, মামলা নিষ্পত্তি ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক ঘর উত্তোলন করছে বিরোধী পক্ষ। জমিটির মৌজা: টবগী,জে.এল. নং: ২৪,তৌজি নং: ৩২, এসএ খতিয়ান নং: ২৫৭,এসএ দাগ নং: ১৩, ১৪, ২৬, ২৭, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪১ ও ১০০ ,বিএস খতিয়ান নং: ৬৩২, বিএস দাগ নং: ৩১৭, ৩২০, ৩২৫, ৩২৬, ৩২৭, ৩২৮, ৩৩০, ৩৩১, ৩৩২, ৩৩৪, ৩৩৫, ৩৩৬ ও ৩৩৭ বিরোধীয় জমি হিসেবে বিএস ৩২৬ নম্বর দাগের ৬ শতাংশ ভূমির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিরোধীয় জমির চৌহদ্দি উত্তরে: বাদীপক্ষের জমি পূর্বে: রুবেল দত্ত, দক্ষিণে: বাদীপক্ষের জমি, পশ্চিমে: বাদীপক্ষের জমি। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, বিরোধীয় সম্পত্তিতে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থাকায় অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বোরহানউদ্দিনের সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মামলার কারণ উদ্ভবের সময় জমির প্রকৃত দখলে কে বা কারা ছিলেন সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এ বিষয়ে বিরোধী পক্ষ মিহির লাল দে জানান এ জমি তাদের প্রায় ৬০ বছর জাবত ভোগদখলে সে যদি জমি পায় নিবে এই দাগে আরো জমি আছে। এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি রণজিৎ চন্দ্র দাস বলেন, ঘটনা স্তান পরিদর্শন করবো এবং উভয় পক্ষকে আদালতের নির্দেশ মানতে বাধ্য করবো।