জাল সনদে চাকরি; ফেঁসে যাচ্ছেন ৪৭১ শিক্ষক
মো: আশরাফুল আলম
সারাদেশে জাল ও ভুয়া সনদে চাকরি নেওয়া ৪৭১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম ধাপে ৬৩ জন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার (২৩ মে) মাউশি থেকে পৃথকভাবে এই নোটিশ জারি করা হয়।
মাউশি সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ৪৭১ জন শিক্ষকের মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪০২ জন, কলেজ পর্যায়ের ৬৪ জন এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন।
প্রথম ধাপে নোটিশ পাওয়া ৬৩ জন শিক্ষককে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে মাউশিতে জবাব দাখিল করতে বলা হয়েছে। নোটিশে জানতে চাওয়া হয়েছে— কেন তাদের এমপিও (মাসিক পেমেন্ট অর্ডার) বাতিল বা স্থগিত করা হবে না এবং কেন তাদের নিয়োগ বাতিলসহ অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) দীর্ঘ তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে এই ৪৭১ জন শিক্ষকের সনদ জাল বলে শনাক্ত করে। ডিআইএ-এর পক্ষ থেকে সম্প্রতি এই শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকাসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সুপারিশ প্রতিবেদন পাঠানো হয়।পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিওনীতিমালা-২০২৫’ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) চিঠি দেয়। সেই নির্দেশনার আলোকেই এখন মাঠপর্যায়ে অ্যাকশন শুরু করেছে মাউশি। পর্যায়ক্রমে তালিকায় থাকা বাকি শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।